ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৪:২৮:১২ AM

“ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ শহিদুলের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
28-09-2026 12:50:35 PM
“ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ শহিদুলের বিরুদ্ধে

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও ভুক্তভোগীদের উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, ভুয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডারবাজি এবং ঠিকাদারদের হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মো. শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালীতে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা।

অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রশাসনিক ও দায়িত্বগত পরিবর্তন হলেও মো. শহিদুল ইসলাম বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে বহাল রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এর আগে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডারবাজি ও ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ তুলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে ২৪ জন ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ঠিকাদাররা দাবি করেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে কমিশন প্রদান না করলে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও বিল পরিশোধে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে বিলম্ব করা এবং বিভিন্ন অজুহাতে ঠিকাদারদের হয়রানি করা হয়।

এছাড়া মাঠপর্যায়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখিয়ে বিলের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাজের জামানতের টাকা ফেরত পেতেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।

ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কথা বললে বিল আটকে দেওয়া কিংবা কাজের সাইটে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরির আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে অনাগ্রহী বলেও তাঁরা দাবি করেন।

মানববন্ধন থেকে অংশগ্রহণকারীরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।