ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৪:০৮:৫৪ AM

দরপত্রে অনিয়ম, তদন্তের মুখে ফিরোজ হাসান

ষ্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
14-10-2026 09:01:35 AM
দরপত্রে অনিয়ম, তদন্তের মুখে ফিরোজ হাসান

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসানকে ঘিরে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন, বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ, বড় প্রকল্পের দরপত্রে কথিত প্রভাব বিস্তার এবং তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন ব্যক্তিরা।

উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার, প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যয় এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত নথি ও প্রমাণ এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, আর্থিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন
কাজী মো. ফিরোজ হাসানের দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি অনুসন্ধানে সামনে এসেছে। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ ও হস্তান্তর, পদোন্নতি, বদলি এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষ করে ক্রয় ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা বজায় ছিল কি না এবং সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি থেকে যাচাই করা যেতে পারে।

বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণের ব্যয় যাচাইয়ের দাবি
তাঁর বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের বিষয়টিও যাচাইয়ের দাবি তুলেছে। এসব সফরের অনুমোদন, মনোনয়ন, অর্থায়নের উৎস, সরকারি ব্যয়ের হিসাব এবং সফর-পরবর্তী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বিদেশ সফর বা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ নিজে কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়। তবে সরকারি অর্থ ব্যয় হয়ে থাকলে সফরগুলো বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছিল কি না এবং এর মাধ্যমে সরকারি কাজে কী সুফল এসেছে, তা যাচাই করা যেতে পারে।

বড় প্রকল্পের দরপত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
অনুসন্ধানে এনডিই (NDE) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথিত যোগসূত্র এবং বড় প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ও দরপত্রের শর্ত প্রণয়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

এসব অভিযোগ যাচাইয়ে প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতার শর্ত, মূল্যায়ন কমিটির কার্যবিবরণী, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধের তথ্য এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত ও নথির ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা জরুরি।

তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ কিংবা একই প্রকল্পে দায়িত্ব পালনের তথ্য একাই অনিয়মের প্রমাণ নয়। অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠায় সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।

সম্পদের উৎস যাচাইয়ের দাবি
কাজী মো. ফিরোজ হাসান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে তাঁদের সম্পদের পরিমাণ, মালিকানা কিংবা আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত নথি পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, গাড়ির মালিকানা এবং প্রাসঙ্গিক আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা যেতে পারে। পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ থাকলে তার মালিকানা ও অর্থের উৎসও প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন। পরিবারের নামে সম্পদ থাকাই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।

দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদন্তের দাবি
অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় দুদক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আইনগতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত নিরীক্ষা ও তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন। তদন্তে দরপত্র মূল্যায়ন, কার্যাদেশ ও বিল পরিশোধে অনিয়ম, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং সম্পদের উৎসসংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

পাশাপাশি এসব বিষয়ে আগে কোনো বিভাগীয় তদন্ত, নিরীক্ষা বা আইনগত কার্যক্রম হয়ে থাকলে তার অগ্রগতি ও ফলাফল যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের সত্যতা না মিললে তা স্পষ্ট করা জরুরি।

বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাজী মো. ফিরোজ হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ব্যাখ্যা ও সরকারি নথি পাওয়া গেলেও তা যাচাই করে প্রতিবেদন হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

নিরপেক্ষ তদন্তই প্রত্যাশা
সরকারি দায়িত্ব পালন, প্রকল্পের দরপত্র এবং সম্পদের উৎস নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর নিষ্পত্তি হওয়া উচিত প্রামাণ্য নথি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং প্রমাণিত না হলে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনআস্থা বাড়বে।