ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৪:২৯:৫৯ AM

জি কে শামীমের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
20-10-2026 12:54:26 PM
জি কে শামীমের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ষষ্ঠ একাডেমিক ভবন (দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ) নির্মাণের ৭৫ কোটি টাকার প্রকল্পে জালিয়াতি, ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠানের আইনগত পরিচয় গোপনের অভিযোগে ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এ মামলায় গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ গঠন করেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলায় জামিনে থাকা জি কে শামীম আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

মামলার নথি ও দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ৭৫ কোটি ১ লাখ ২৯৫ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ দরপত্রে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে এবং দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড যৌথ অংশীদার হিসেবে অংশ নেয়। পরে ওই বছরের ১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যাদেশের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

দুদকের অভিযোগ, দরপত্র আহ্বানের এক দিন পর, ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড নিবন্ধিত হয়। ফলে দরপত্রে অংশ নেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তদন্তে অভিযোগ করা হয়, জি কে শামীমের আগের একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এম/এস জি কে বিল্ডার্সের ১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা, পাঁচ বছরের বার্ষিক টার্নওভার এবং আর্থিক সক্ষমতার তথ্য নতুন প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের আইনগত পরিচয় ও নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপনে অনিয়ম করা হয়। পাশাপাশি অনুমোদিত শেয়ারের হিসাব বাড়িয়ে দেখিয়ে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিকে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। ওই দরপত্রে মাত্র দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ ঠিকাদারদের দরপত্রের ফরম সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ঢাকার নিকেতন এলাকা থেকে জি কে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর বিভিন্ন ঠিকাদারি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের দরপত্রপ্রক্রিয়া নিয়েও অনুসন্ধান চালায় দুদক।

মামলার নথি অনুযায়ী, দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর দুদক মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। মামলায় প্রথমে দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল করিম চৌধুরীকে আসামি করা হলেও তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ফলে অভিযোগপত্রে জি কে শামীম একমাত্র আসামি হিসেবে রয়েছেন।

দুদকের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণা, ৪৬৭ ধারায় মূল্যবান দলিল জাল করা, ৪৬৮ ধারায় প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি, ৪৭১ ধারায় জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহার এবং ৪০৯ ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে দরপত্রের স্বচ্ছতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের মতো বড় প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত ও বিচার করা প্রয়োজন। তবে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আইনগতভাবে দোষী বলা যায় না। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপরই অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নির্ভর করবে।