ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৪:১৩:০৯ AM

কাস্টমস বন্ডে অনিয়ম, অভিযুক্ত হাসনাইন

ষ্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
13-10-2026 08:33:22 PM
কাস্টমস বন্ডে অনিয়ম, অভিযুক্ত হাসনাইন

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর)-এর কমিশনারের স্টাফ অফিসার ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে সহযোগিতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাবেক কমিশনার আবু ওবায়দা ও অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের দায়িত্বকালে কথিত এই চক্রের প্রভাব বিস্তার ঘটে। এমনকি প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন সূত্রগুলো। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট আর্থিক নথি, লেনদেনের প্রমাণ কিংবা তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও ঘুষের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কাস্টমস বন্ডের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া এবং এর বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে চৌধুরী গোলাম হাসনাইনকে ঘিরে। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্যের ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানি করে খোলাবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার যোগাযোগ রয়েছে।

তবে কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের সুবিধা পেয়েছে, কোন চালানের মাধ্যমে অনিয়ম হয়েছে কিংবা এতে সরকারের কত টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আমদানি-রপ্তানির নথি, শুল্ক নির্ধারণের তথ্য এবং দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত এই সিন্ডিকেটে কয়েকজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সিপাহির সম্পৃক্ততা রয়েছে। সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মজনু মিয়াসহ আরও কয়েকজনের নাম অভিযোগের সূত্রে এসেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তাঁদের ভূমিকার প্রমাণ কিংবা এ বিষয়ে কোনো তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যও যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে, হাসনাইন এর আগে যেসব কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে বিভাগীয় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নথি পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ
কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা ও হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন সংবাদকর্মীর দাবি, তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্যালয়ে গেলে তাঁদের প্রবেশপথের গেটে আটকে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাঁরা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

এ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে একটি কথিত ‘লাঠিয়াল বাহিনী’র মাধ্যমে সাংবাদিকদের হুমকি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সংবাদকর্মী। তবে এসব ঘটনার তারিখ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা লিখিত অভিযোগের অনুলিপি পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নতুন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগকারীদের দাবি, ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অল্প সময়ের চাকরিজীবনে গোলাম হাসনাইন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে রয়েছে বলেও কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন। তবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ, বৈধ আয়ের হিসাব কিংবা দুদকের আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরুর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বক্তব্য দিতে অনীহা, সম্পাদককে হুমকির অভিযোগ
চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বক্তব্য জানতে তাঁকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি নিজেই সম্পাদককে ফোন করেন বলে জানানো হয়েছে। ওই সময় তিনি বলেন, “আমরা সাত ভাই, আমাদের নামে কোনো সম্পত্তি নেই। আমার ওয়াইফ ভালো স্যালারির জব করে।”

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তিনি উত্তেজিত হয়ে সম্পাদককে উদ্দেশ করে বলেন, “তোর নামে মামলা করব, তুই কত বড় সাংবাদিক দেখছি আমি, বস্তির টোকাই তোরা।” এ বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নতুন কমিশনার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্তের উদ্যোগ নেবেন। ঘুষ লেনদেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার কিংবা রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। আর্থিক নথি, দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত, আমদানি-রপ্তানির তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমেই অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।