ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৪:০৮:৫৭ AM

কর পরিদর্শক কবিরের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

ষ্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
14-10-2026 08:10:38 PM
কর পরিদর্শক কবিরের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

ঢাকা কর অঞ্চল-২৫-এর কর সার্কেল-৫৪৩-এর উপকমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত কর পরিদর্শক মু. কবির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কথা জানা গেছে। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হাফসা আক্তার বাবলির দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বরিশালের একটি আদালত এ আদেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম আহমেদের স্বাক্ষরিত আদেশে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আসামিকে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আদালতের আদেশের অনুলিপি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কবির হোসেন তাঁর আগের বিয়ে ও দুই সন্তানের তথ্য গোপন করে হাফসা আক্তার বাবলিকে বিয়ে করেন। গত ১৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে নিবন্ধন করা হয়। হাফসা পিরোজপুরের বাসিন্দা মো. বেলায়েত হোসেন শেখের মেয়ে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের কয়েক মাস পর কবির হোসেন দ্বিতীয় স্ত্রীকে না জানিয়ে তাঁর আগের স্ত্রীর কাছে ফিরে যান। পরে গত ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ফোনে বিবাহবিচ্ছেদের কথা জানিয়ে দেনমোহরের বিষয়ে মামলা বা আইনি পদক্ষেপ না নিতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন হাফসা। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলেও মামলার সূত্রের দাবি।

এদিকে, দেনমোহরের অর্থ পরিশোধ এড়াতে কবির হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন হাফসা। তাঁর দাবি, এসব মামলার একটিতে আদালত খারিজের আদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

মামলার সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবর পাওয়ার পর কবির হোসেন আত্মগোপনে চলে যান এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাননি। তাঁর কয়েকজন সহকর্মীর বরাতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল এবং এ কারণে তাঁকে শোকজ করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, দেনমোহর স্ত্রীর আইনস্বীকৃত অধিকার। স্বামী বিবাহবিচ্ছেদ ঘটালেও প্রাপ্য দেনমোহরের দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয় না। তবে নির্দিষ্ট মামলায় দেনমোহরের পরিমাণ, পরিশোধের অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনগত দায় নির্ধারণের বিষয়টি আদালতের নথি ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী বিবেচ্য।

এ বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক রেজিনা পারভীন বলেন, কোনো নারীকে তাঁর প্রাপ্য দেনমোহর থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, দেনমোহর নারীর অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বিষয়ে টালবাহানা বা অসৎ পন্থা অবলম্বনের অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিকে, কয়েকটি নারী অধিকারবিষয়ক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কোনো নারী তাঁর প্রাপ্য দেনমোহর থেকে বঞ্চিত হলে আইনগত সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেনের কাছে পরোয়ানার কাগজ পৌঁছেছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নিশ্চিত করা যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কর পরিদর্শক কবির হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে একটি বিকাশ নম্বর দিতে বলেন, যাতে তিনি ‘চা-খরচ’ পাঠাতে পারেন বলে প্রতিবেদকের দাবি। এ বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। মামলার অভিযোগ ও পরোয়ানা সম্পর্কে কবির হোসেনের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।