ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৫:০৯:০৯ PM

পিলখানা হত্যাকাণ্ড,মেজর মোহসিনুলের করুণ অধ্যায়

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
23-10-2026 03:45:28 PM
পিলখানা হত্যাকাণ্ড,মেজর মোহসিনুলের করুণ অধ্যায়

বাংলাদেশের ইতিহাসে পিলখানা হত্যাকাণ্ড একটি মর্মান্তিক ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে বহু সেনা কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে আসে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর মোহসিনুল করিমের নাম। তাঁকে ঘিরে প্রচলিত কিছু বর্ণনায় উঠে এসেছে প্রতিবাদ, পেশাগত অনিশ্চয়তা, আত্মগোপন এবং চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার এক করুণ কাহিনি।

প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মেজর মোহসিনুল করিম গভীরভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সহকর্মীদের মৃত্যু এবং ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়। এমনকি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের সামনেও তিনি কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর প্রতিবাদী অবস্থানের কারণে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। সামরিক বাহিনীতে কর্মরত একজন কর্মকর্তার জন্য এমন পরিস্থিতি পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। তবে তাঁর অবসরের প্রকৃত কারণ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বর্ণিত ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। এসব অভিযোগের কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং তাঁকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল বলে প্রচলিত কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে তাঁকে আত্মগোপনে যেতে হয়েছিল বলেও বর্ণনায় দাবি করা হয়। সেই সময়ে পরিচিতজন ও আত্মীয়স্বজনের কাছে আশ্রয় চেয়েও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে উল্লেখ রয়েছে। এমনকি জীবিকা নির্বাহের জন্য তাঁকে রিকশা চালাতে হয়েছে এবং কোনো কোনো সময় রেলস্টেশনে রাত কাটাতে হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার জীবনে এমন পরিস্থিতি নেমে আসার কাহিনি সত্য হলে তা নিঃসন্দেহে গভীর মানবিক বেদনার বিষয়।

আরও বলা হয়, এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি চরমোনাই পীরের আশ্রয়ে কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। কিন্তু সেখানেও তাঁকে কেউ চিনে ফেলে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল এবং আঙুলের মধ্যে সুচ ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছিল বলেও বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে তাঁর পরিবারকেও মানসিক চাপে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মেজর মোহসিনুল করিমকে ঘিরে প্রচলিত এসব ঘটনা একজন মানুষের ব্যক্তিগত সংগ্রাম, নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে টিকে থাকার প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে। তবে এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য নথি, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করা জরুরি।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রতিটি সংশ্লিষ্ট অধ্যায় নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ ও প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে সত্য উদ্‌ঘাটন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে তুলে ধরাই হওয়া উচিত দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য।