ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৪:৩১:১৪ AM

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্সে ব্যাপক সহিংসতা

রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
07-10-2026 10:17:26 AM
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্সে ব্যাপক সহিংসতা

শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। দেশটির বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। কোথাও কোথাও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া ও রাস্তায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে দেশজুড়ে সব হাইস্কুলের ক্লাস স্থগিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু।সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগ, দুপুরের খাবারের বিরতি বাড়ানো এবং স্কুলে দৈনিক ক্লাসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা।

কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। তবে আয়োজকদের দাবি, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ।হাইস্কুল শিক্ষার্থী ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার হাইস্কুলে অবরোধ করা হয়েছে অথবা ক্লাস বন্ধ ছিল।

রাজধানী প্যারিসসহ মার্সেই, নঁত ও লিওঁ শহরেও বড় বিক্ষোভ হয়েছে। বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নামেন আন্দোলনকারীরা। স্ট্রাসবুর্গ, লিওঁ ও রেনে শহরে বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়।পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ রাস্তায় আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন।

প্যারিসের বিক্ষোভ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার জানান, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নও আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে। কৃষক, জ্বালানি খাতের কর্মী ও শিক্ষক ইউনিয়নের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সমর্থনে রাস্তায় নামার কথা জানিয়েছেন। অভিভাবকরাও সন্তানদের সমর্থনের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

দুই সপ্তাহ আগে প্যারিসের দরিদ্র শহরতলিগুলোতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার বলছে, আন্দোলনটি কয়েকটি এলাকায় শহুরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এ কারণে কিছু সমাবেশে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হাইস্কুলের ক্লাস স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেন, একটি হাইস্কুল পুড়িয়ে দিলে ওই স্কুলের পরিস্থিতি ভালো হবে না। শিক্ষার্থীদের স্কুলের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ‘অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের’ মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে অক্টোবরের শেষ নাগাদ পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন লেকর্নু। পুরোনো স্কুল ভবন সংস্কারের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি। তবে দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এসব দাবিতে সরকার কত দ্রুত সাড়া দিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

লেকর্নুর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ২১৫ জন কিশোর ও ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

এর আগে সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় শহর লঁসে হাইস্কুল শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর গুরুতর আহত হয়। ফরাসি সংবাদপত্র লা ভোয়া দ্য নোর জানিয়েছে, পুলিশের একটি গ্রেনেড তুলে নেওয়ার পর বিস্ফোরণে ওই কিশোরের একটি হাতের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়। সরকার জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়েছিলেন।

এদিকে ফ্রান্সের চলমান বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তিনি বিক্ষোভের জন্য অভিবাসন ও মুসলিমদের দায়ী করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ফ্রান্সের পরিস্থিতির মূল কারণ ‘নিয়ন্ত্রণহীন গণঅভিবাসন’ এবং ইসলাম ফ্রান্সকে দখল করতে চাইছে।

ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পর অধিকারকর্মীরা এর সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডানপন্থি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য বাড়ছে।