ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬,
সময়: ১২:১৪:৩৭ AM

ভারতে পুলিশের ওপর সেনা সদস্যদের হামলা

ডেস্ক রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
25-06-2026 08:10:12 PM
ভারতে পুলিশের ওপর সেনা সদস্যদের হামলা

জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলায় একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন কর্নেল এবং একজন মেজর রয়েছেন।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিস্তওয়ারের আথোলি পুলিশ স্টেশনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখেসহ ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয় সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে।তবে এ বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
এক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র বলেন, বিষয়টি স্থানীয় পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-সংক্রান্ত এবং তা যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় আহতদের মধ্যে আথোলির উপ-পুলিশ সুপার (এসডিপিও) বিজয় কুমার ভগত এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) অমৃত কাটোচ রয়েছেন।

এফআইআরে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় এসএইচও অমৃত কাটোচ একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাইরে ছিলেন। এ সময় সেনা সদস্যরা পুলিশ স্টেশনে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। খবর পেয়ে তিনি থানায় ফিরে এলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।পুলিশের দাবি, মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা এসএইচওর ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলেন এবং এসডিপিওকেও মারধর করেন। হামলায় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এফআইআরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লোহার রড এবং সরকারি অস্ত্র নিয়ে সেনা সদস্যরা থানার মূল ফটক ও দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও) এবং তার নিরাপত্তারক্ষীদেরও মারধর করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওই ঘটনার পর সেনা সদস্যরা থানায় হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ।

পুলিশ আরও দাবি করেছে, হামলাকারীরা সরকারি যানবাহন ও থানার সম্পত্তিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসএইচও এবং এসডিপিওর সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় এবং থানার মূল ফটক ভেঙে ফেলা হয়।এফআইআরে পুলিশ বলেছে, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের গুরুতর ক্ষতি কিংবা হত্যা করার উদ্দেশ্যেই সেনা সদস্যরা থানায় প্রবেশ করেছিলেন।