ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,
সময়: ১২:১৮:০২ AM

কিবরিয়ার চোখ হারানোর ঘটনায় বিচার প্রত্যাশা

ষ্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
24-06-2026 08:31:44 PM
কিবরিয়ার চোখ হারানোর ঘটনায় বিচার প্রত্যাশা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের কর্মী কিবরিয়ার দুই চোখ হারানোর ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন পর তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং বিচার দাবি করেছেন। ঘটনাটি রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন মহলে পুনরায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে কুমিল্লা এলাকায় কিবরিয়াকে একদল ব্যক্তি অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে একটি বাসায় আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। কিবরিয়ার অভিযোগ, নির্যাতনের একপর্যায়ে তার দুই চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়, যার ফলে তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান।

পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। কিবরিয়া ও তার পরিবারের দাবি, ঘটনার পরও তারা দীর্ঘ সময় ন্যায়বিচার পাননি এবং বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে ছিলেন।

কিবরিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মেধাবী ও সক্রিয় ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর তার জীবনের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি এই ঘটনার বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক কারণে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং মামলার বিচারিক অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মন্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে যেকোনো নাগরিকের ওপর নির্যাতন, গুম, হত্যা বা অঙ্গহানির ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না গেলে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য বিচার, পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, অতীতের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য উদ্ঘাটন করা হলে সমাজে আস্থা ফিরবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

কিবরিয়া বর্তমানে দৃষ্টিশক্তিহীন জীবনযাপন করছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হারানো চোখ আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়, তবে তিনি চান ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার হোক। তার এই দাবি কেবল ব্যক্তিগত ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়; বরং রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ও বটে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। কিবরিয়ার ঘটনাও সেই বৃহত্তর প্রশ্নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা গেলে শুধু একজন ভুক্তভোগী নয়, পুরো সমাজই ন্যায়বিচারের প্রতি নতুন আস্থা ফিরে পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।