ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
সময়: ১০:৪৮:৪৭ PM

কাঠালতলীর ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
21-07-2026 03:44:08 PM
কাঠালতলীর ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে অভিযোগ

মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঠালতলীতে গত শুক্রবার সংঘটিত একটি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য, স্ট্যাটাস ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয় অনেকের দাবি, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজেদের মতো করে তথ্য প্রচার করছেন, যার ফলে বিভ্রান্তি বাড়ছে।

স্থানীয়দের একটি অংশের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় অতীতে সংঘটিত নানা অপকর্মের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত এক সাবেক চেয়ারম্যান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের দাবি, তিনি গত ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাতে সহযোগিতা করছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হচ্ছে, গলাচিপার কিশোর সরকার নামের এক ব্যক্তি, যিনি জেলা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের সম্প্রদায়ের কয়েকজন যুবককে ব্যবহার করে বিএনপি এবং আলতাফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় অনেক সাধারণ মানুষ।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান লাভলু কাজী অতীত সরকারের আমলে কাজী পাবলিক লাইব্রেরির সরকারি জায়গায় একটি পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন, যা স্থানীয়দের একটি অংশ অবৈধ হিসেবে দাবি করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনমনে অসন্তোষ বিরাজ করছিল বলেও জানা গেছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই স্থাপনা অপসারণের জন্য পাবলিক লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ আদালতের মাধ্যমে নোটিশও প্রদান করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লাভলু কাজী এবং তার অনুসারীরা অতীত সরকারের সময় এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হামলা-মামলা, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এসব ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমে রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক ভাঙচুরের ঘটনাটি স্থানীয় জনরোষের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। একই সঙ্গে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পলাতক আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে আলোচনায় রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটও এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য, মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কাঠালতলীর ভাঙচুরের ঘটনায় তাদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। তাদের বক্তব্য, কে বা কারা ওই ঘর ভেঙেছে সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বরং রাজনৈতিকভাবে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বর্তমানে এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে তারা মনে করেন। তারা প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।