হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ বলেছেন, বিমানবন্দরের কুরিয়ার শেডে থাকা কনটেইনারের ভেতর ও পাশ থেকে থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্লাইট পরিচালনায় বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো ক্ষতি না হওয়ায়, ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুক্রবার (০৫ জুন) রাত ১২টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব কথা বলেন। রাগীব জানান, রাত ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় একটি কনটেইনারের ভেতর ও পাশে আগুনের সূত্রপাত দেখা যায়। বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট, ফায়ার সার্ভিস ও সংলগ্ন বিমানবাহিনীর ঘাঁটি থেকে আসা সদস্যদের তৎপরতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে সম্ভাব্য অন্য কোনো সূত্র থেকে আগুন এসেছে কি-না, সেগুলো দেখা হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
এর আগে শুক্রবার রাতে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার শেডে (মালামাল রাখার স্থান) এ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। তবে আধা ঘণ্টারও কম সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বিমানবন্দরের নিজস্ব ইউনিটসহ ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের সদস্যরা।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত ১১টা ২৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ১১টা ২৭ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে তারা। আগুন নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আরও চারটি ইউনিট যুক্ত হয়।ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা রাশেদ বিন খালিদ বলেন, আগুন লাগার খবরে প্রথমে দুটি ইউনিট কাজ শুরু করে, পরে আরও চারটি ইউনিট পাঠানো হয়। বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটের পাশে মালামাল রাখার শেডে আগুন লাগে। দ্রুত নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করতে পারায় রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে, অর্থাৎ ১৪ মিনিটের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এ কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পর তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য জানানো যাবে।নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, আগুনের তীব্রতা খুব বেশি না থাকায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর (শনিবার) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনে আমদানি কমপ্লেক্সের পুরোটাই পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট আগুন পুরোপুরি নেভাতে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করে। এই ঘটনায় অন্তত ২২ জন আহত হন।
সেদিন বেলা সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সব উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ থাকে। ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
সে সময় বিমানবন্দরের ভেতরে নজিরবিহীন এই অগ্নিকাণ্ডকে অনেকে রহস্যজনক বলে দাবি করেন। বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক ফায়ার ইউনিট থাকার পরও আগুন এভাবে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে নানান প্রশ্ন ওঠে।