বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো একদিনের আন্দোলনের ফল নয়; এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ। নাগরিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংঘটিত এ আন্দোলনের সঙ্গে ফরাসি বিপ্লবের চেতনার মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে যদি শেখ হাসিনা সরকারের পতন না ঘটত এবং আন্দোলন ব্যর্থ হতো, তাহলে আমাদের অনেকেরই ফাঁসি হতো। সেই সময় মনে হয়েছিল আমরা যেন মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি। আমরা জেলখানায় থাকলেও সেদিন মুক্তির যে স্বাদ ও আনন্দ অনুভব করেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন অপরিহার্য। রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও শালীনতা প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশ আবারও অতীতের অন্ধকার পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে পারে।
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তিনি রাজনীতিকে একটি জঘন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এত নির্যাতন, অবিচার ও জুলুম সহ্য করার পরও আমরা তার কঠোর সমালোচনা করেছি, কিন্তু কখনো অশ্লীল বা কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করিনি।’
রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনা যে ধরনের অশালীন রাজনৈতিক ভাষার প্রচলন করেছিলেন, বর্তমানে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার বক্তব্যেও সেই একই প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শালীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘এনসিপি জামায়াতের মস্তিষ্ক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।’ পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে সরকার গঠন করা সম্ভব হলেও একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজন বাস্তব অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম এবং সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক (নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী) সুজন মিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাবের বিএমইউ শাখার সভাপতি শারমিন আক্তার।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নার্সদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তারা আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা ও সেবাদানে নার্সদের মানবিক অবদান স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতেও স্বাস্থ্যখাতের পেশাজীবীদের জনগণের পাশে থেকে মানবিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পরে ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ বিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।