ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০২:৪১:৪৮ AM

সাবেক কাস্টমস কমিশনারকে ঘিরে অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
03-08-2026 04:25:12 PM
সাবেক কাস্টমস কমিশনারকে ঘিরে অভিযোগ

সাবেক কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমানকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে কেন্দ্র করে আবারও নানা দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব দাবির অনেকগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার আগে সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে অতীতে জানা যায়, হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত পরিচালিত হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট তদন্তে তাঁর সম্পদ, ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধান করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি এবং আদালতের রায়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বিভিন্ন সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ পেয়েছিলেন। বিশেষ করে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে তাঁর পদায়ন নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। তবে এসব দাবি নিয়ে সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা এবং অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও আইনি অবস্থান প্রকাশ্যে না থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে এমনও আলোচনা রয়েছে যে, হাফিজুর রহমান বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে নানা ধরনের দাবি ও গুঞ্জন থাকলেও এর পক্ষে কোনো সরকারি ঘোষণা, নিয়োগ-সংক্রান্ত নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

সুশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত যেকোনো ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য দলিল, আদালতের রায়, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এতে একদিকে যেমন জনস্বার্থ রক্ষা হয়, অন্যদিকে সংবাদ পরিবেশনে ন্যায্যতা ও পেশাগত মান বজায় থাকে।

হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তিনি বা তাঁর আইনজীবী এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানালে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা তথ্য প্রকাশিত হলে সে অনুযায়ী বিষয়টি হালনাগাদ করা প্রয়োজন। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যাচাইকৃত তথ্য, নথিভিত্তিক প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করাই সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি।