ঢাকা, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৩:০৫:১৭ AM

অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারে আলোচনায় হাবিব

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
30-07-2026 08:23:27 PM
অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারে আলোচনায় হাবিব

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা (বিভাগীয় মামলা সেল) আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎস-বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন, দীর্ঘদিন একই পদে বহাল থেকে প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, বদলি বাণিজ্য এবং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মতো নানা অনিয়মের অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএর অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

১৫ বছর একই পদে: বিভাগীয় মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটির ভবনের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত বিভাগীয় মামলা সেলে কর্মরত আহসান হাবিব গত প্রায় ১৫ বছর ধরে একই পদ ও কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এই দীর্ঘ সময়কে কাজে লাগিয়ে সংস্থায় একছত্র প্রভাব বিস্তার করেছেন।

অভিযোগের ভাষ্য অনুযায়ী, আহসান হাবিব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে বেনামি অভিযোগপত্র তৈরি করে কিংবা বিদ্যমান অভিযোগকে মূলধন করে বিভাগীয় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া শুরু করতেন। এরপর চাকরিচ্যুত করা, সাময়িক বরখাস্ত করা কিংবা দূর-দূরান্তে বদলি করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন।

بدলি বাণিজ্য ও প্রশাসনিক দুর্নীতি: ৩০ কোটি টাকার হিসাব
সূত্রের দাবি, শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানিই নয়—চাকরি প্রদান, বদলি বাণিজ্য, ঘাট ইজারা এবং বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেন তিনি। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী:

সাবেক সচিবের স্বার্থ সংস্থান: বিআইডব্লিউটিএর সাবেক এক সচিবের আশ্রয়ে থেকে তার জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগৃহীত হয়।

নিজস্ব অবৈধ আয়: এসব ক্ষমতার অপব্যবহার ও বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি নিজে প্রায় ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সাড়ে ষাট হাজার টাকার বেতনে কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্য
অভিযোগের সবচেয়ে বড় দিক হলো আহসান হাবিবের বিপুল পরিমাণ দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদ। সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী তার বর্তমান মূল ও আনুষঙ্গিক ভাতা মিলিয়ে মোট মাসিক বেতন প্রায় ৬০ হাজার টাকা। অথচ অনুসন্ধানে ও স্থানীয়দের অভিযোগে তার যে সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে, তা তার বৈধ আয়ের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ:

কুমিল্লার আলিশান বাংলো: কুমিল্লার গোমতী নদীর অপর পাড়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সুবিশাল ও বিলাসবহুল বাংলো বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

সাততলা ভবন: কুমিল্লা শহরের কোতোয়ালি থানাধীন মুগলটুলিতে জামে মসজিদের পাশে একটি বহুতল (সাততলা) আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে।

ঢাকার ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক খামার: রাজধানী ঢাকায় তার একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে, যার কয়েকটি থেকে মোটা অঙ্কের ভাড়া পান তিনি। এছাড়া তার মালিকানায় মাছের ঘের এবং গরুর খামার পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিলাস বহর: চলাচলের জন্য তার দুটি ব্যক্তিগত বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে।

অভিযুক্তের বক্তব্য ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এসব গুরুতর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আহসান হাবিব সকল অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন:

"আমার সকল সম্পদ বৈধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত। আমি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সাথে যুক্ত নই। আর ১৫ বছর একই কর্মস্থলে থাকা প্রসঙ্গে বলতে চাই—আমার কর্তৃপক্ষ আমার দায়িত্ব ও কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট বলেই আমাকে এখানে রেখেছেন। একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন কাজ করা কোনো অপরাধ নয়।"

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সাধারণ কর্মচারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেলে একই ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনিক রদবদল ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি জানান।

দুদক ও মন্ত্রণালয়ের কাছে তদন্তের দাবি
বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষুব্ধ মহল অবিলম্বে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, আহসান হাবিবের সম্পদের উৎস নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

জনস্বার্থে উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা এখন সময়ের দাবি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মহল এবং সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।