বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা প্রদান এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি, সব টেন্ডার কার্যক্রম সরকারি বিধি ও প্রচলিত নিয়ম অনুসারেই পরিচালিত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের হয়েছে। ওই রিটে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পাউবোর মহাপরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ এবং একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারী প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও তাদের কার্যাদেশ না দিয়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাঁশবারিয়া (সীতাকুণ্ড) ফেরিঘাট ও সংযুক্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার মূল্যায়নে অনিয়ম হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বৈষম্য করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো উচ্চ আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে, একাধিক ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু প্রকল্পে কাজ পেতে কমিশন দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে টেন্ডারে অংশ নিয়েও কার্যাদেশ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাউবোর অধীনে কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, অতীতেও কিছু বাঁধ ও নদী সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া পাউবোর বিভিন্ন দায়িত্বে কর্মরত থাকার সময় তানজীর সাইফের বিরুদ্ধে টেন্ডার ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠার কথাও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অধিকাংশই এখনো তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হয়নি।
সুশাসন ও সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া, কার্যাদেশ প্রদান এবং বাস্তবায়ন নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পাউবোর পক্ষ থেকে টেন্ডার কার্যক্রম সম্পূর্ণ সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রিটে উত্থাপিত অভিযোগ এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে এখনো আদালত বা কোনো সরকারি তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে বিষয়গুলো বিচারাধীন এবং অভিযোগ হিসেবে বিবেচ্য।