ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬,
সময়: ০৪:১০:২৩ PM
রাজনীতিতে সরব হচ্ছে নিষিদ্ধ একটি দল পুলিশের ভেতরে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা পাকিস্তানকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে এগোলো বাংলাদেশ দেশ ও মানুষের সেবাই রাজনীতি কে এই সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক এস কীর্তনা আ.লীগের ভুল নীতিতে বিদ্যুৎ ভর্তুকি ৭ গুণ সংকটে স্বস্তি ও উন্নয়নের বাজেটের খোঁজে সরকার সহনশীলতা ও ধৈর্যের রাজনীতিতে তারেক রহমান দল ছেড়েও স্বস্তিতে নেই যেসব বিএনপি নেতা মাহিদুলের ব্যাটে আবাহনীর স্বস্তির জয় সহকারী প্রক্টরের পদ ছাড়লেন শেহরীন মোনামি আইনশৃঙ্খলায় কঠোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী মা ও জীবন:ত্যাগ আর অস্তিত্বের সম্পর্ক ত্যাগী না অভিজ্ঞ-কোন পথে হাটছেন বিএনপি মা ও জীবন:ত্যাগ আর অস্তিত্বের সম্পর্ক দলীয় সমন্বয়ের ওপর জোর প্রধানমন্ত্রীর আরামবাগকে হারিয়ে মোহামেডানের জয় ইইউ-ভারত বাণিজ্য চুক্তি: পোশাক খাতে শঙ্কা এখনও নেতাকর্মী নিয়েই দিন পার রিজভীর হাম ও সন্দেহজনক হামে ৭ জনের মৃত্যু শান্তর শতক, মমিনুলের আক্ষেপেও প্রথম দিনটা বিএনপিই শাপলা চত্বরের হত্যাকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছিল এনসিপিতে যোগদিল বিভিন্ন দলের ৩ শতাধিক নেতাকর্মী খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ১৫ জন ভারতের পাঁচ রাজ্যে ১০৭ মুসলিম প্রার্থী বিজয়ী অবশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন বিজয় বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনা জরুরি: রিজভী কদমতলীতে ফোম কারখানায় ভয়াবহ আগুন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
নির্বাচনী সহিংসতা রোধে পদেক্ষপ নিন: ফারুক বিশ্বে বাংলার সুরকে ছড়িয়ে দিতে চাই:দিনা মন্ডল উপসাগরজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সই করেছেন, ‘না’র সুযোগ নেই: বিএনপিকে পাটওয়ারী আমান উল্লাহ :গণতন্ত্র ও জনসেবার এক জীবন্ত প্রতীক বাঞ্ছারামপুরে সাকি বিরোধী মিছিল, বয়কটের ঘোষণা জামায়াত-শিবির দেশের জন্য ভালোবাসার প্রতীক: ড.মাসুদ দক্ষিন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক হলেন শাহ মো.মাসুম বিল্লাহ এই কেমন বিচার? জানা গেল কারন রেড ক্রিসেন্ট জিম্মি সুলতান-সোহাগ সিন্ডিকেটে গোটা জাতি এই বৈঠকের’ দিকে তাকিয়ে আছে:রিজভী কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীদের বেতন বন্ধ ৭ মাস শহিদ রমজানের পিতার অশ্রুসিক্ত চোখে দিনার কন্ঠে মৌলিক গান 'মনে রইলো কষ্ট' মির্জা আব্বাস:এক লড়াকু রাজনীতির দীর্ঘ পথচলা কেরানীগঞ্জে বেপরোয়া তাতীলীগ সভাপতি মোল্লা কে কোথায় আছেন?আ’ লীগের শীর্ষ নেতারা মাফিয়াতন্ত্রের বাংলাদেশ দেখতে চাই না:জামায়াত বরিশাল শিল্পকলা ফের রঙ্গশালা বানানোর ষড়যন্ত্র ! বাঞ্ছারামপু‌রে রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০ এমপি হতে চাইছেন বরিশাল বিভাগের ১৯ ছাত্রনেতা পাক তারকার সঙ্গে সম্পর্কে দুই বাঙালি নায়িকা! সুবিধাবাদী ও উল্টোপথে চলা দল জামায়াত:লিটন মাহমুদ ‘টিসিবির এক কোটি কার্ডধারীর ৩৭ লাখই ভুয়া’ মালয়েশিয়া যাত্রা অনিশ্চিত লাখ লাখ শ্রমিকের বাংলাদেশে ‘অস্থিরতা’ তৈরির হুমকি দেববর্মা’র ‘এক হাউস,এক মিডিয়া’নীতিতে শঙ্কা বাড়ছে উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করেই ছাড়ল বাংলাদেশ নয়াদিল্লিতে কুম্ভমেলায় পদদলিত হয়ে নিহত ১৮ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ফয়সালের কত সম্পদ

খালেদা জিয়ার সাথে সফরের স্মৃতিচারন নুরুল ইসলাম মাসুদের

মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে ঐতিহাসিক এক মাইলফলক ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) চক্রেও টাইগারদের প্রথম জয় এটি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের টানা তৃতীয় টেস্ট জয় এটি। এর আগে দুই দলের মধ্যকার প্রথম ১৩টি টেস্টের ১২টিতেই পাকিস্তান জয়ী হয়েছিল এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল । এই জয়ের ফলে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে বড়সড় ওলটপালট হয়েছে। বাংলাদেশ উঠে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে, আর আগে ভারতের উপরে থাকা পাকিস্তান নেমে গেছে সপ্তম স্থানে। বর্তমানে ৩ ম্যাচে ১ জয়, ১ হার ও ১ ড্র নিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ১৬। অন্যদিকে ৩ ম্যাচে ১ জয় ও ২ হার নিয়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট। টেবিলের সবার উপরে আছে অস্ট্রেলিয়া, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ স্থানে আছে শ্রীলঙ্কা।

চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১১৬ রান নিয়ে খেলতে নামা পাকিস্তান আজ ৫২.৫ ওভারে ১৬৩ রানেই অলআউট হয়ে গেছে। বাংলাদেশের দেওয়া ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে নাহিদ রানার বিধ্বংসী ৫ উইকেটের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ।

দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে আব্দুল্লাহ ফজল সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন। সালমান আগা করেন ২৬ রান। এছাড়া সৌদ শাকিল, ইমাম-উল-হক ও রিজওয়ান- সবাই ১৫ রান করে আউট হন। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাহিদ রানা, ৯.৫ ওভারে মাত্র ৪০ রান দিয়ে শিকার করেন ৫ উইকেট। এছাড়া তাসকিন ও তাইজুল ২টি করে এবং মিরাজ ১টি উইকেট নেন।

এর আগে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে আজকের দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আরও ৮৮ রান যোগ করে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। এতে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রানের।অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৫০ বলে ৮৭ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে আবারও সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মমিনুল হকও খেলেন ৫৬ রানের লড়াকু ইনিংস। এছাড়া মিরাজ ২৪ ও মুশফিক ২২ রান করেন।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রান সংগ্রহ করেছিল, যেখানে শান্ত ১০১, মমিনুল ৯১ এবং মুশফিক ৭১ রান করেন। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস একাই নেন ৫ উইকেট। জবাবে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়। আজান আওয়াইস (১০৩), আব্দুল্লাহ ফজল (৬০), রিজওয়ান (৫৯) ও সালমান আগা (৫৮) ভালো ব্যাটিং করলেও মিরাজের ৫ উইকেটের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের এই সম্মিলিত পারফরম্যান্সেই ধরা দিয়েছে ঐতিহাসিক এই জয়।

পরনে নেই প্রথাগত গেরুয়া বসন, হাতে নেই চিরাচরিত একতারা। তবুও যখন বেহালার ছড় টানেন আর কণ্ঠ ছাড়েন, তখন শ্রোতারা হারিয়ে যান অন্য এক ভাবে। তিনি তানিয়া সরকার। সময়ের সাহসী ও জনপ্রিয় এক বাউল শিল্পী, যিনি চিরায়ত প্রথার বাইরে গিয়েও সুরের জাদুতে জয় করেছেন লাখো ভক্তের হৃদয়।
​সুরের আলোয় নুসরাত থেকে তানিয়া
​সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জন্ম নেওয়া নুসরাত জাহান তানিয়ার বেড়ে ওঠা ঢাকার ধামরাইয়ে। জীবনের মোড় বদলে যায় যখন তিনি বাউল গানের দীক্ষা নেন। তার প্রথম গানের গুরু বাবা তরিকুল ইসলাম তোরাপ। শৈশবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বাবার স্বপ্নের প্রতিফলন দেখতেন তিনি। পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের ওস্তাদ সুনিল সরকারের কাছে বাউল গানের গুরুমুখী বিদ্যায় শিক্ষিত হন। গুরুর দেওয়া ‘তানিয়া সরকার’ নামেই আজ তিনি দেশের সংগীতাকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
​করোনা জয় ও ডিজিটাল বিপ্লব
​২০২০ সালে পেশাদার যাত্রা শুরু করলেও বিশ্বব্যাপী মহামারী তানিয়ার পথ আগলে দাঁড়ায়। কিন্তু সুর যার রক্তে, তাকে থামানো দায়। প্রতিকূল সময়ে অনলাইনে শুরু করেন গানের আসর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার গায়কী ও বেহালার সুর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ২০২৬ সালে এসে তার গাওয়া ‘ও রাধে ও রাধে’ এবং ‘কলিজা কাটা বিচ্ছেদ’ গানগুলো ইউটিউব ও টিকটকে নতুন প্রজন্মের মুখে মুখে ফিরছে।
​স্বামী যখন অনুপ্রেরণার সারথি
​তানিয়ার এই সাফল্যের পেছনে বড় শক্তি তার স্বামী মো: আলহাজ হোসেন। শুরুতে কিছুটা অনীহা থাকলেও এখন তিনিই তানিয়ার প্রধান দিকনির্দেশক। কোন গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে দাগ কাটবে, কোন মায়াবী হাসিতে মঞ্চ মাতাবে—সব পরিকল্পনাতেই থাকে স্বামীর অনুপ্রেরণা। ধামরাই সরকারি কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি গানকে পেশা হিসেবে নিয়ে তানিয়া প্রমাণ করেছেন, একাগ্রতা থাকলে সবকিছুই সম্ভব।
​স্বপ্ন যখন আকাশ ছোঁয়ার
​চ্যানেল আই-এর ‘মেঘে ঢাকা তারা’ থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় মেলা কিংবা স্টেজ শো—সবখানেই তানিয়ার পদচারণা। বাউল, বিচ্ছেদ, লালনগীতি কিংবা পল্লীগীতি—সব ধরণের গানেই তিনি সমান পারদর্শী। তবে তানিয়ার স্বপ্ন আরও বড়। তিনি বলেন:
​"দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসাই আমাকে আজকের তানিয়া সরকার বানিয়েছে। আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। কোনো একদিন বাংলার এই শেকড়ের সুর বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দেওয়াই আমার জীবনের লক্ষ্য।"

​বেহালার তারে মায়ার জাল বুনে তানিয়া সরকার বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাউল হওয়া মানে শুধু বেশভূষা নয়, বরং অন্তরের গভীর থেকে সুরের সাধনা করা। অদম্য এই শিল্পী এখন কেবল তানিয়া নন, তিনি বাংলার লোকজ সংগীতের এক নতুন আশার নাম।