ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
সময়: ০৩:০৯:৫১ AM
২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ মোহাম্মদপুরে মিনিটেই শেষ হয় ছিনতাই সন্ত্রাসের কবলে খুলনা মহানগরী জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বিশ্বকাপে বিলি করা হবে ৭০ লাখ কনডম! ৩৮৯০ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন সংগ্রাম, ত্যাগ ও আদর্শের প্রতীক:যুবদল সভাপতি নারী উদ্যোক্তাবান্ধব বাজেট এখন সময়ের দাবি ইসরায়েল ও ইরানকে থামতে বললেন ট্রাম্প ট্রাফিক পুলিশকে মারধর, নারীসহ ৩ জনের সাজা ত্যাগ, সংগ্রাম ও আনুগত্যের প্রতিচ্ছবি:রুহুল কবির রিজভী বদলাবে কি দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার চিত্র? পুশ-ইন ঠেকাতে ভারতকে দফায় দফায় চি‌ঠি শামসুজ্জামান দুদুর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের গল্প শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগে আসছে সঞ্চয়পত্র গণমাধ্যমের কেউ অপকর্মে জড়ালে ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর সংসদ সদস্যদের বক্তব্য হবে গণমুখী:শফিকুর রহমান পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর ভারতের জেন-জি কী চায়, মোদীর গদি কি টিকবে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত ইসি: মাছউদ এনসিপির ৮.৫২ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট এবার দিল্লির রাস্তায় নামল তেলাপোকা জনতা পার্টি নীতি-নির্ধারণের এক অনন্য আলোকবর্তিকা ড.মাহদী তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর দাম বাড়ছে না’ সংগ্রাম,ত্যাগের প্রতীক:টুকুর রাজনৈতিক পথচলা শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন:নির্বাহী পরিচালক তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি: বিচার ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি
নির্বাচনী সহিংসতা রোধে পদেক্ষপ নিন: ফারুক উপসাগরজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জামায়াত-শিবির দেশের জন্য ভালোবাসার প্রতীক: ড.মাসুদ বাঞ্ছারামপুরে সাকি বিরোধী মিছিল, বয়কটের ঘোষণা বিশ্বে বাংলার সুরকে ছড়িয়ে দিতে চাই:দিনা মন্ডল আমান উল্লাহ :গণতন্ত্র ও জনসেবার এক জীবন্ত প্রতীক সই করেছেন, ‘না’র সুযোগ নেই: বিএনপিকে পাটওয়ারী দক্ষিন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক হলেন শাহ মো.মাসুম বিল্লাহ এই কেমন বিচার? জানা গেল কারন রেড ক্রিসেন্ট জিম্মি সুলতান-সোহাগ সিন্ডিকেটে কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীদের বেতন বন্ধ ৭ মাস কেরানীগঞ্জে বেপরোয়া তাতীলীগ সভাপতি মোল্লা গোটা জাতি এই বৈঠকের’ দিকে তাকিয়ে আছে:রিজভী শহিদ রমজানের পিতার অশ্রুসিক্ত চোখে মির্জা আব্বাস:এক লড়াকু রাজনীতির দীর্ঘ পথচলা দিনার কন্ঠে মৌলিক গান 'মনে রইলো কষ্ট' মাফিয়াতন্ত্রের বাংলাদেশ দেখতে চাই না:জামায়াত কে কোথায় আছেন?আ’ লীগের শীর্ষ নেতারা বরিশাল শিল্পকলা ফের রঙ্গশালা বানানোর ষড়যন্ত্র ! বাঞ্ছারামপু‌রে রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০ এমপি হতে চাইছেন বরিশাল বিভাগের ১৯ ছাত্রনেতা পাক তারকার সঙ্গে সম্পর্কে দুই বাঙালি নায়িকা! সুবিধাবাদী ও উল্টোপথে চলা দল জামায়াত:লিটন মাহমুদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ফয়সালের কত সম্পদ মালয়েশিয়া যাত্রা অনিশ্চিত লাখ লাখ শ্রমিকের ‘টিসিবির এক কোটি কার্ডধারীর ৩৭ লাখই ভুয়া’ বাংলাদেশে ‘অস্থিরতা’ তৈরির হুমকি দেববর্মা’র ‘এক হাউস,এক মিডিয়া’নীতিতে শঙ্কা বাড়ছে সংসার ভাঙল এ আর রহমান ও সায়রা বানুর উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করেই ছাড়ল বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার সাথে সফরের স্মৃতিচারন নুরুল ইসলাম মাসুদের

২১ বছর আগে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাটে লেখা হয়েছিল এক রূপকথা। সেদিন রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ম্যাথু হেইডেনদের অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ দেখিয়েছিল, অসম্ভব বলেও কিছু নেই।কিন্তু সেই স্মৃতিটাই যেন বছরের পর বছর একমাত্র সান্ত্বনা হয়ে ছিল। এর বাইরে খেলা ২১ ম্যাচে যতবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ, ততবারই দেখা গেছে শক্তির পার্থক্য।লড়াইয়ের আগেই যেন ফলাফল অনুমান করে ফেলা যেত!
কিন্তু সময় বদলেছে। এবার অস্ট্রেলিয়া দেখল ভিন্ন এক বাংলাদেশকে।

নাহিদ রানা-মোসাদ্দেকরা দেখিয়েছেন আত্মবিশ্বাস, সাহস আর আধিপত্যের এক নতুন রূপ। যেন ২১ বছরের আগ্রাসনের জবাব আগ্রাসনেই দিল লাল-সবুজরা।
ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং; তিন বিভাগেই অস্ট্রেলিয়াকে ছাপিয়ে ৮৬ রানের দুর্দান্ত জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। এই জয়ে কার্ডিফের রূপকথাই যেন ফিরে এল মিরপুরে। শক্তির বিচারে অস্ট্রেলিয়ার এই দল কিছুটা খর্বশক্তির হলেও মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ নয়।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পায় বাংলাদেশ। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সাহসী ব্যাটিং করেন স্বাগতিক ব্যাটাররা। মোসাদ্দেক হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর হাফ সেঞ্চুরিতে ২৮৪ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে নাহিদ রানা-মোসাদ্দেক-মোস্তাফিজদের তোপের মুখে ১৯১ রানেই থমকে যায় অজিদের ইনিংস। তাতেই ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের দেওয়া ২৮৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথিউ শর্টকে ফিরিয়ে সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশের এই পেসারের ভেতরে ঢোকা বলটি বুঝতেই পারেননি শর্ট। পরের ওভারেই মারনাস লাবুশেনকে তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। অজি ব্যাটিংয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে দ্রুত ফিরিয়ে জয়ের পথটা সহজ করে ফেলে বাংলাদেশ। ১ রান করে আউট হন লাবুশেন।

২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর কুপার কোনোলি ও জশ ইংলিস প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। যদিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তাদের প্রতিরোধ। নাহিদ রানাকে বোলিংশেষ পর্যন্ত নাহিদের গতির সামনে অসহায় হয়ে পড়েন ইংলিস। ১৪৭.৯ কিলোমিটার গতির হার্ড লেংথ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে ভালো জায়গায় পড়ে। শরীর থেকে দূরে গিয়ে ব্যাকফুটে খেলার চেষ্টা করেন ইংলিস। কিন্তু বলের গতির কাছে পরাস্ত হয়ে উইকেটরক্ষক লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। উইকেট নেওয়ার পর নাহিদ ও ইংলিসের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। যদিও অধিনায়ক মিরাজ পরিস্থিতি সামাল দেন।

চতুর্থ উইকেটে কোনোলিকে সঙ্গে নিয়ে অ্যালেক্স ক্যারি দলকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে উইকেটে জমে যাওয়া এই জুটি ভাঙেন চার বছর পর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেন। তার করা আর্ম বলটি লেগ সাইড দিয়ে কাট করতে চেয়েছিলেন কোনোলি। কিন্তু ৩৫ রানে থামতে হয় তাকে। তাতেই ভাঙে ৫৫ বলে ৪০ রানের জুটি।

পঞ্চম উইকেটে ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন গড়েন আরও ৩৭ রানের জুটি। এবার ১৪৬ কিলোমিটার গতির সিম ডেলিভারি ভেতরে ঢোকে। পা না সরিয়ে দাঁড়িয়ে বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন ক্যারি। কিন্তু বলের মুভমেন্ট তাকে ধোঁকা দেয়। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটনের গ্লাভসে। ৪৭ রানে আউট হন ক্যারি।

নাহিদের গতি ও নিখুঁত লাইন-লেংথের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। ১২৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর দ্রুত আরও তিন উইকেট হারায় তারা। মোসাদ্দেকের স্লোয়ারে ম্যাট রেনশ ২ রানে ফেরেন। নাহিদের গতিতে পরাস্ত হয়ে লিয়াম স্কট ২ ও জাভিয়ার বার্টলেট ১ রান করেন। নাহিদ তখন অপেক্ষায় ছিলেন আরও একটি ফাইফারের। তবে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট পাওয়া হয়নি তার। ১০ ওভারে ৪১ রান খরচায় শিকার করেন ৪ উইকেট।

খেলাটা দ্রুতই শেষ হয়ে যেতে পারত। কিন্তু ক্যামেরন গ্রিন দায়িত্ব নিয়ে লেজের ব্যাটারদের সঙ্গে ব্যাটিং করেন। ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা না থাকলেও অনেকটা নেট ব্যাটিংয়ের মেজাজে খেলছিলেন তিনি। নাথান এলিসের সঙ্গে ১৬ এবং অ্যাডাম জাম্পার সঙ্গে ৩৫ রানের জুটি গড়েন গ্রিন।য়ে আনতেই অস্বস্তি শুরু হয় কোনোলি-ইংলিসদের মধ্যে।

পরনে নেই প্রথাগত গেরুয়া বসন, হাতে নেই চিরাচরিত একতারা। তবুও যখন বেহালার ছড় টানেন আর কণ্ঠ ছাড়েন, তখন শ্রোতারা হারিয়ে যান অন্য এক ভাবে। তিনি তানিয়া সরকার। সময়ের সাহসী ও জনপ্রিয় এক বাউল শিল্পী, যিনি চিরায়ত প্রথার বাইরে গিয়েও সুরের জাদুতে জয় করেছেন লাখো ভক্তের হৃদয়।
​সুরের আলোয় নুসরাত থেকে তানিয়া
​সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জন্ম নেওয়া নুসরাত জাহান তানিয়ার বেড়ে ওঠা ঢাকার ধামরাইয়ে। জীবনের মোড় বদলে যায় যখন তিনি বাউল গানের দীক্ষা নেন। তার প্রথম গানের গুরু বাবা তরিকুল ইসলাম তোরাপ। শৈশবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বাবার স্বপ্নের প্রতিফলন দেখতেন তিনি। পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের ওস্তাদ সুনিল সরকারের কাছে বাউল গানের গুরুমুখী বিদ্যায় শিক্ষিত হন। গুরুর দেওয়া ‘তানিয়া সরকার’ নামেই আজ তিনি দেশের সংগীতাকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
​করোনা জয় ও ডিজিটাল বিপ্লব
​২০২০ সালে পেশাদার যাত্রা শুরু করলেও বিশ্বব্যাপী মহামারী তানিয়ার পথ আগলে দাঁড়ায়। কিন্তু সুর যার রক্তে, তাকে থামানো দায়। প্রতিকূল সময়ে অনলাইনে শুরু করেন গানের আসর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার গায়কী ও বেহালার সুর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ২০২৬ সালে এসে তার গাওয়া ‘ও রাধে ও রাধে’ এবং ‘কলিজা কাটা বিচ্ছেদ’ গানগুলো ইউটিউব ও টিকটকে নতুন প্রজন্মের মুখে মুখে ফিরছে।
​স্বামী যখন অনুপ্রেরণার সারথি
​তানিয়ার এই সাফল্যের পেছনে বড় শক্তি তার স্বামী মো: আলহাজ হোসেন। শুরুতে কিছুটা অনীহা থাকলেও এখন তিনিই তানিয়ার প্রধান দিকনির্দেশক। কোন গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে দাগ কাটবে, কোন মায়াবী হাসিতে মঞ্চ মাতাবে—সব পরিকল্পনাতেই থাকে স্বামীর অনুপ্রেরণা। ধামরাই সরকারি কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি গানকে পেশা হিসেবে নিয়ে তানিয়া প্রমাণ করেছেন, একাগ্রতা থাকলে সবকিছুই সম্ভব।
​স্বপ্ন যখন আকাশ ছোঁয়ার
​চ্যানেল আই-এর ‘মেঘে ঢাকা তারা’ থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় মেলা কিংবা স্টেজ শো—সবখানেই তানিয়ার পদচারণা। বাউল, বিচ্ছেদ, লালনগীতি কিংবা পল্লীগীতি—সব ধরণের গানেই তিনি সমান পারদর্শী। তবে তানিয়ার স্বপ্ন আরও বড়। তিনি বলেন:
​"দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসাই আমাকে আজকের তানিয়া সরকার বানিয়েছে। আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। কোনো একদিন বাংলার এই শেকড়ের সুর বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দেওয়াই আমার জীবনের লক্ষ্য।"

​বেহালার তারে মায়ার জাল বুনে তানিয়া সরকার বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাউল হওয়া মানে শুধু বেশভূষা নয়, বরং অন্তরের গভীর থেকে সুরের সাধনা করা। অদম্য এই শিল্পী এখন কেবল তানিয়া নন, তিনি বাংলার লোকজ সংগীতের এক নতুন আশার নাম।