সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে কালপ্রবাহের গতিধারা একমুখী ও রৈখিক। কিন্তু মানব সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সমাজ ও জনমিতির বিবর্তন চক্রাকার ও বহুমাত্রিক। ১১ জুলাই ২০২৬, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রান্তর ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আমরা যখন বিশ্বজনীন এক গভীর রূপান্তরের মুখোমুখি তখন কেবল সংখ্যার হিসাব দিয়ে মানুষের অস্তিত্বকে পরিমাপ করা অসম্ভব। এবারে এই দিবসের মূল প্রতিপাদ্য “তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি”—আমাদের এক গভীর দার্শনিক জিজ্ঞাসার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এই স্লোগান তরুণের উদ্দীপনা আর আগামী দিনের সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে। তবে এর অন্তর্নিহিত দর্শন আরও গভীর: যখন কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র মানব উন্নয়ন সূচকে (HDI) ‘উন্নত’ বা ‘অতি উন্নত’ স্তরে পৌঁছায় তখন তারুণ্য আর বার্ধক্যের চিরাচরিত সীমানাগুলো ক্রমশ আবছা হতে শুরু করে। দীর্ঘায়িত গড় আয়ু এবং উন্নত জীবনযাত্রার সমীকরণে প্রবীণ প্রজন্মই হয়ে ওঠে তারুণ্যের নতুন ধারক যা এক অনন্য সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিপ্লবের জন্ম দেয়। কারণ মানব উন্নয়ন সূচকের সোপান জনমিতিক রূপান্তরের দর্শন। একটি দেশের মানব উন্নয়ন সূচক (Human Development Index) যখন মধ্যম বা নিম্ন স্তর থেকে ক্রমশ উন্নত ও অতি উন্নত ক্যাটাগরির দিকে ধাবিত হয় তখন চিকিৎসা বিজ্ঞান, পুষ্টি, জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক সুরক্ষার এক অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটে। বাংলাদেশ আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে উন্নত মানব উন্নয়ন সূচকের স্বপ্নিল দিগন্তে প্রবেশাধিকার অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। এই অগ্রযাত্রার অনিবার্য নিয়তি হলো প্রজনন হার হ্রাস এবং গড় আয়ুর অভাবনীয় বৃদ্ধি। প্রখ্যাত ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী ও জনমিতিবিদ ওগ্যুস্ত কোঁত (Auguste Comte) বলেছিলেন, "Demography is destiny" বা জনমিতিই হলো নিয়তি। এই নিয়তির অমোঘ নিয়মে একটি উন্নত রাষ্ট্রে তরুণ জনগোষ্ঠীর আনুপাতিক হার হ্রাস পায় এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।
কিন্তু এই প্রবীণত্ব কি কেবলই এক ক্ষীয়মাণ জীবনের গল্প? দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বার্ধক্য কোনো জরা বা স্থবিরতার নাম নয় বরং এটি হলো অভিজ্ঞতার আলোকে পরিশোধিত এক নতুন ধরনের তারুণ্য। উন্নত বিশ্বে যেমন জাপান, সুইডেন, কিংবা কানাডায় আমরা আজ যা দেখছি অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বুকেও তা দৃশ্যমান হবে। প্রবীণেরা সেখানে কেবল গলগ্রহ বা পরজীবী নন তারা তরুণদের সমান্তরালে, কখনো বা তরুণদের চেয়েও বেশি ক্ষিপ্রতায়, আধুনিক প্রযুক্তির হাতিয়ার হাতে নিয়ে বিশ্বায়নের বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে আছেন। এটি প্রবীণত্বের অবয়বে তারুণ্যেরই এক মনস্তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পুনর্জন্ম। "তারুণ্য কোনো বয়স নয় এটি মনের একটি অবস্থা, ইচ্ছাশক্তির একটি গুণ, কল্পনার একটি বিশিষ্টতা এবং অনুভূতির তীব্রতা। এটি জীবনের গভীর প্রসবণ থেকে উৎকীর্ণ সাহসের চিরন্তন বহিঃপ্রকাশ।” - স্যামুয়েল উলম্যানের এই অমর বাণীই যেন আজকের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কর্মক্ষমতার মূল উৎস।
জনসংখ্যার সংখ্যাতাত্ত্বিক ধারণা একটা গোলকধাঁধা ঠিক ফুটবল মাঠের দর্শনের মতো। আমরা সচরাচর বিপুল জনসংখ্যাকে এক বিশাল সংখ্যাতাত্ত্বিক বোঝা কিংবা স্রেফ জ্যামিতিক প্রবৃদ্ধির খতিয়ান হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু প্রকৃতির এই মানবিক সমীকরণটি সংখ্যার আধিক্যে নয় বরং গুণগত বিন্যাসের গভীর রহস্যে মোড়ানো। এই গোলকধাঁধাকে যদি আমরা একটি ফুটবল মাঠের রূপকে দাঁড় করাই তবে এর দার্শনিক সত্যটি আরও নিখুঁতভাবে উন্মোচিত হয় একটি ফুটবল টিমে খেলোয়াড় সংখ্যা নির্দিষ্ট—ঠিক ১১ জন। সেখানে একজন যোগ্য 'টিম লিডার' বা অধিনায়ক থাকেন যিনি রণকৌশল সাজান আর অতন্দ্র প্রহরীর মতো পোস্ট আগলে দাঁড়িয়ে থাকেন মাত্র ১ জন গোলকিপার। মাঠের অপর প্রান্তে যখন বিপক্ষ দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা একের পর এক তীব্র গতির 'কিক' বা আক্রমণ হেনে ধেয়ে আসে তখন সেই একজন গোলকিপারকেই নিজের সমস্ত একাগ্রতা, ক্ষিপ্রতা এবং মনস্তাত্ত্বিক শক্তি দিয়ে তা সামাল দিতে হয়। সেই একা গোলকিপারের প্রতিটি নিখুঁত সেভ কিংবা সামান্যতম বিচ্যুতির ওপরই কিন্তু নির্ধারিত হয় পুরো দলের জয় কিংবা পরাজয়।
জনসংখ্যা কাঠামোর সমীকরণটিও ঠিক এই মাঠের মতোই। ১১ জন খেলোয়াড়ের বিশাল মাঠে যেমন সেই একজন গোলকিপারই চূড়ান্ত নিয়তি নির্ধারণ করেন ঠিক তেমনি একটি দেশের সামগ্রিক জনমিতিতে প্রবীণ জনগোষ্ঠী হলো সেই অতন্দ্র গোলকিপার। যখন একটি দেশ উন্নত মানব উন্নয়ন সূচকে (HDI) পৌঁছায় তখন তরুণ স্ট্রাইকারদের সংখ্যা আনুপাতিক হারে হয়তো কমে আসে কিন্তু জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ প্রবীণেরা তখন সমাজের ডিফেন্ডার এবং গোলকিপার হিসেবে গোলপোস্টের দায়িত্ব নেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা সামাজিক অবক্ষয়ের মতো বিপক্ষ শক্তির যত ‘কিক’ বা মরণকামড় আসুক না কেনো প্রবীণদের প্রজ্ঞা এবং তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সমন্বিত গোলকিপিং-ই রাষ্ট্রের জয়-পরাজয় ফাইনাল করে। সংখ্যার এই গোলকধাঁধায় তাই কেবল কতজন তরুণ আছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং গোলপোস্ট আগলে রাখার মতো প্রজ্ঞাবান কতজন অতন্দ্র প্রহরী আছে সেটাই আসল সত্য।
পরিসংখ্যানের আয়নায় বৈশ্বিক ও দেশীয় বাস্তবতায় জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) এবং বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলোর দিকে তাকালে এক চমকপ্রদ সত্য উদঘাটিত হয়। বর্তমানে যেসব দেশ অত্যন্ত উচ্চ মানব উন্নয়ন সূচক (Very High HDI) অর্জন করেছে যেমন নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, জাপান এবং সিঙ্গাপুর সেখানে গড় আয়ু ৮২ থেকে ৮৬ বছরের মধ্যে ওঠানামা করছে। জাপানে ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর হার মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯.১ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোতেও এই চিত্র প্রায় কাছাকাছি। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক উপাত্ত অনুযায়ী সামগ্রিক বিশ্বে প্রবীণ জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধির হার তরুণদের প্রবৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিবিএস (BBS) ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর প্রাক্কলন অনুযায়ী আমাদের গড় আয়ু এখন ৭৩ বছর ছাড়িয়ে ৭৪ বছরের দিকে ধাবমান। ২০৩০ সাল নাগাদ এ দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রবীণ তালিকায় যুক্ত হবে। যখন বাংলাদেশ উন্নত মানব উন্নয়ন সূচকের পূর্ণ গৌরব অর্জন করবে তখন এই রূপান্তর আরও ত্বরান্বিত হবে। এই পরিসংখ্যানগুলো প্রমাণ করে যে উন্নত বিশ্বে প্রবীণদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াসত্ত্বেও তাদের জিডিপিতে (GDP) অবদান হ্রাস পায়নি বরং বেড়েছে। এর কারণ হলো তারা প্রথাগত কায়িক শ্রমের গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে (Knowledge Economy) নিজেদের তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে পুনঃস্থাপিত করেছেন।
প্রবীণের মনস্তত্ত্বে তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা এক যৌক্তিক বিশ্লেষণ। এবারের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ এর প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন’ কীভাবে প্রবীণদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে তা এক গভীর সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের দাবি রাখে। যৌবনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো অজানাকে জানার কৌতূহল, সৃষ্টির উন্মাদনা এবং ঝুঁকি নেওয়ার স্পর্ধা দেখানো। যখন একটি দেশের স্বাস্থ্য খাত উন্নত হয়, তখন প্রবীণদের শরীর হয়তো জীববৈজ্ঞানিক নিয়মে কিছুটা শিথিল হয়, কিন্তু তাদের মনস্তত্ত্ব থাকে সজীব ও গতিশীল। প্রবীণ ব্যক্তিরা তরুণদের মতোই নতুন প্রযুক্তি শিখছেন, ফ্রিল্যান্সিং করছেন, স্টার্ট-আপ গড়ে তুলছেন এবং কর্পোরেট বোর্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দার্শনিক বিচারে, এটিকে আমরা বলতে পারি ‘সিলভার ডিভিডেন্ড’ (Silver Dividend) বা রূপালী লভ্যাংশ। তরুণদের যেখানে রয়েছে কেবল বেগ, প্রবীণদের সেখানে রয়েছে বেগের সাথে আবেগের নিয়ন্ত্রণ এবং দিকনির্দেশনা (Direction)। উন্নত দেশগুলোতে তরুণদের সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে যে শূন্যতা তৈরি হয় প্রবীণেরা তাদের চিরতরুণ কর্মস্পৃহা দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করছেন। তারা তরুণদের সাথে কোনো দ্বন্দ্বে লিপ্ত নন বরং তারা নিজেরাই তরুণদের ন্যায় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়ে প্রমাণ করছেন যে উৎপাদনশীলতার কোনো বয়স নেই।
সাহিত্যিক দৃষ্টিতে জরা ও যৌবনের যুগলবন্দী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘সবুজপত্রের মুখপত্র’-এ লিখেছিলেন, “যৌবনই তো জীবনের সেই অংশ যাহা আপনার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত অংশকে গ্রাস করিয়া সজীব করিয়া রাখিতে পারে।” রবীন্দ্র-দর্শনের এই সূত্র ধরে বলা যায় আজকের প্রবীণেরা হলেন সেই ‘সবুজ প্রবীণ’ যারা বার্ধক্যের ধূসর চাদরের নিচে তারুণ্যের অগ্নিস্ফুলিঙ্গকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তারা কেবল অতীতের স্মৃতিচারণকারী নন তারা ভবিষ্যতের রূপকার। আধুনিক সংবাদপত্রের পাতায় যখন আমরা উন্নত দেশগুলোর চিত্র দেখি, তখন অবাক হয়ে লক্ষ্য করি সত্তর বছর বয়সী একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তরুণদের সাথে কোডিং প্রতিযোগিতায় সমানতালে লড়ছেন কিংবা একজন আশী বছর বয়সী কৃষক ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের খামার পরিচালনা করছেন। এই যে আধুনিকতার সাথে মিতালী, এই যে পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এটিই তো তারুণ্যের আসল পরিচয়। প্রবীণ প্রজন্ম সেই তারুণ্যের স্বপ্নকে তাদের প্রজ্ঞা দিয়ে বাস্তব রূপ দান করে।
বাংলাদেশ বর্তমানে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশের সুবর্ণ সময় পার করছে। আমাদের জনসংখ্যার সিংহভাগই তরুণ। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে এই সময় চিরস্থায়ী নয়। আগামী দুই থেকে তিন দশকের মধ্যে এই তরুণ জনগোষ্ঠীই প্রবীণ প্রজন্মে রূপান্তরিত হবে। ততদিনে বাংলাদেশ উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ পেরিয়ে উন্নত দেশের তালিকায় নাম লেখাবে। অতএব ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমাদের কৌশলগত চিন্তার পরিবর্তন আনা জরুরি। আমাদের এখনই এমন একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে যেখানে প্রবীণদের ‘অবসরপ্রাপ্ত’ বা ‘অক্ষম’ হিসেবে বিবেচনা না করে তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে উৎপাদনশীল খাতে কাজে লাগানো যায়। এর জন্য প্রয়োজন আজীবন শিক্ষা ও পুনঃপ্রশিক্ষণ (Lifelong Learning & Reskilling)। প্রবীণদের আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষিত করা যাতে তারা কর্মক্ষেত্রে তরুণদের মতোই প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতা ধরে রাখতে পারেন। স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা সুরক্ষায় উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রবীণদের কর্মক্ষম আয়ুষ্কাল (Healthy Life Expectancy) বৃদ্ধি করা সময়ের দাবী। নমনীয় কর্মপরিবেশ (Flexible Working Hours) প্রবীণদের জন্য খণ্ডকালীন বা পরামর্শক হিসেবে কাজ করার আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।
‘ছেলে হোক, মেয়ে হোক দু'টি সন্তানই যথেষ্ট’ থেকে শুরু করে ‘আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ সবকিছুর মূল লক্ষ্য মানুষের গুণগত উন্নয়ন। বাংলাদেশ যখন উন্নত মানব উন্নয়ন সূচকের শিখরে আরোহণ করবে, তখন আমাদের প্রবীণ প্রজন্ম এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। তারা তাদের শারীরিক জরাকে জয় করবেন মনের অভ্যন্তরীণ তারুণ্য দিয়ে তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা কেবল তরুণদের বয়সের ফ্রেমে বন্দি থাকবে না বরং তা ছড়িয়ে পড়বে আমাদের প্রতিটি প্রবীণ নাগরিকের প্রজ্ঞাময় কর্মোদ্যোগে। তরুণ ও প্রবীণের এই অভূতপূর্ব মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক যুগলবন্দীর মাধ্যমেই নির্মিত হবে একটি সাম্যবাদী, প্রগতিশীল এবং চিরসবুজ বাংলাদেশ।
লেখক: কবি, সাহিত্যিক,কলামিস্ট ও এমফিল গবেষক, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়।