ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:০৪:০৩ AM

‘বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণী অনেক:জাইমা

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
17-07-2026 07:20:51 PM
‘বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণী অনেক:জাইমা

বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে জাইমা রহমান লিখেছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁর পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। স্কাউটিং, বিজ্ঞানমেলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, পরিবেশ রক্ষা, সংগীত, শিল্পকলা, ভাষা শিক্ষা এবং কোডিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অসাধারণ অর্জন তাঁকে মুগ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, জানার আগ্রহ, শৃঙ্খলা ও দৃঢ় মনোবল সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা নিজেদের পছন্দের বিষয়ে আরও দক্ষ হয়ে ওঠার জন্য প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

জাইমা রহমানের ভাষ্য, বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই। তবে তাদের অনেককেই অল্প বয়সেই বড় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কেউ আর্থিক সংকটে ভোগে, কেউ পরিবারের দায়িত্ব বহন করে। আবার ভিন্নভাবে সক্ষম অনেক তরুণ-তরুণীকে প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তাও পায় না।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় মনে হয়, সফল হওয়া ছাড়া তাদের সামনে যেন আর কোনো বিকল্প নেই। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য কিংবা সমাজের জন্য তাদের সফল হতেই হবে। অথচ এত অল্প বয়সে এমন দায়িত্ব বহন করা সহজ নয়।

তরুণদের অনুপ্রেরণার প্রসঙ্গ তুলে জাইমা রহমান বলেন, তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তিনি ভাবছিলেন, আমাদের শিশুরা কাদের দেখে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কারা তাদের শেখায় যে জীবনে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব? কঠিন সময়ে কারা তাদের সাহস জোগায়?

তিনি বলেন, রোল মডেল হতে হলে কাউকে বিখ্যাত বা নিখুঁত হতে হয় না। একজন সংগ্রামী বাবা বা মা, একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, একজন দায়িত্বশীল প্রশিক্ষক কিংবা দূর থেকে দেখা এমন কোনো মানুষও রোল মডেল হতে পারেন, যিনি একজন তরুণকে সাহস জোগান এবং বিশ্বাস করতে শেখান—‘আমিও পারব’।

জাইমা রহমান বলেন, অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের তরুণদের সব সময় দেশের বাইরের মানুষের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশেই এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছেন, যাদের সাহস, মেধা এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা সত্যিই অনুকরণীয়। তাদের জীবনের গল্পের সঙ্গে দেশের তরুণ-তরুণীরা সহজেই নিজেদের মিল খুঁজে পেতে পারে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হবে।

জাইমা রহমানের মতে, শুধু অনুপ্রেরণা দিলেই হবে না; এমন পরিবেশ ও সুযোগও তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু তার মেধা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে। শিক্ষা, খেলাধুলা কিংবা নতুন কোনো দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন ভাগ্য, পরিচিতি বা পরিবারের ত্যাগের ওপর নির্ভরশীল না হয়।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখাতে, পরামর্শ দিতে এবং তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতে সমাজের আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

পোস্টের শেষাংশে জাইমা রহমান লেখেন, আমরা অনেকেই হয়তো বুঝতে পারি না, একজন তরুণের জীবনে আমাদের ইতিবাচক প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে। বিশ্বস্ত কোনো প্রবীণ মানুষের সামান্য উৎসাহ, সহানুভূতি কিংবা বিশ্বাসও একজন তরুণকে অনুভব করাতে পারে যে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তার স্বপ্নেরও মূল্য রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশ্নটি এই নয় যে বাংলাদেশে যোগ্য ও মেধাবী তরুণ-তরুণী রয়েছে কি না। এর প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়তই আমাদের চারপাশে দেখতে পাই। আসল প্রশ্ন হলো—যখন তাদের আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন আমরা কি সত্যিই তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট করছি?