ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
সময়: ১১:৫১:৫১ PM

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
09-06-2026 11:51:51 PM
২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

২১ বছর আগে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাটে লেখা হয়েছিল এক রূপকথা। সেদিন রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ম্যাথু হেইডেনদের অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ দেখিয়েছিল, অসম্ভব বলেও কিছু নেই।কিন্তু সেই স্মৃতিটাই যেন বছরের পর বছর একমাত্র সান্ত্বনা হয়ে ছিল। এর বাইরে খেলা ২১ ম্যাচে যতবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ, ততবারই দেখা গেছে শক্তির পার্থক্য।লড়াইয়ের আগেই যেন ফলাফল অনুমান করে ফেলা যেত!
কিন্তু সময় বদলেছে। এবার অস্ট্রেলিয়া দেখল ভিন্ন এক বাংলাদেশকে।

নাহিদ রানা-মোসাদ্দেকরা দেখিয়েছেন আত্মবিশ্বাস, সাহস আর আধিপত্যের এক নতুন রূপ। যেন ২১ বছরের আগ্রাসনের জবাব আগ্রাসনেই দিল লাল-সবুজরা।
ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং; তিন বিভাগেই অস্ট্রেলিয়াকে ছাপিয়ে ৮৬ রানের দুর্দান্ত জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। এই জয়ে কার্ডিফের রূপকথাই যেন ফিরে এল মিরপুরে। শক্তির বিচারে অস্ট্রেলিয়ার এই দল কিছুটা খর্বশক্তির হলেও মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ নয়।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পায় বাংলাদেশ। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সাহসী ব্যাটিং করেন স্বাগতিক ব্যাটাররা। মোসাদ্দেক হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর হাফ সেঞ্চুরিতে ২৮৪ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে নাহিদ রানা-মোসাদ্দেক-মোস্তাফিজদের তোপের মুখে ১৯১ রানেই থমকে যায় অজিদের ইনিংস। তাতেই ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের দেওয়া ২৮৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথিউ শর্টকে ফিরিয়ে সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশের এই পেসারের ভেতরে ঢোকা বলটি বুঝতেই পারেননি শর্ট। পরের ওভারেই মারনাস লাবুশেনকে তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। অজি ব্যাটিংয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে দ্রুত ফিরিয়ে জয়ের পথটা সহজ করে ফেলে বাংলাদেশ। ১ রান করে আউট হন লাবুশেন।

২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর কুপার কোনোলি ও জশ ইংলিস প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। যদিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তাদের প্রতিরোধ। নাহিদ রানাকে বোলিংশেষ পর্যন্ত নাহিদের গতির সামনে অসহায় হয়ে পড়েন ইংলিস। ১৪৭.৯ কিলোমিটার গতির হার্ড লেংথ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে ভালো জায়গায় পড়ে। শরীর থেকে দূরে গিয়ে ব্যাকফুটে খেলার চেষ্টা করেন ইংলিস। কিন্তু বলের গতির কাছে পরাস্ত হয়ে উইকেটরক্ষক লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। উইকেট নেওয়ার পর নাহিদ ও ইংলিসের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। যদিও অধিনায়ক মিরাজ পরিস্থিতি সামাল দেন।

চতুর্থ উইকেটে কোনোলিকে সঙ্গে নিয়ে অ্যালেক্স ক্যারি দলকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে উইকেটে জমে যাওয়া এই জুটি ভাঙেন চার বছর পর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেন। তার করা আর্ম বলটি লেগ সাইড দিয়ে কাট করতে চেয়েছিলেন কোনোলি। কিন্তু ৩৫ রানে থামতে হয় তাকে। তাতেই ভাঙে ৫৫ বলে ৪০ রানের জুটি।

পঞ্চম উইকেটে ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন গড়েন আরও ৩৭ রানের জুটি। এবার ১৪৬ কিলোমিটার গতির সিম ডেলিভারি ভেতরে ঢোকে। পা না সরিয়ে দাঁড়িয়ে বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন ক্যারি। কিন্তু বলের মুভমেন্ট তাকে ধোঁকা দেয়। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটনের গ্লাভসে। ৪৭ রানে আউট হন ক্যারি।

নাহিদের গতি ও নিখুঁত লাইন-লেংথের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। ১২৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর দ্রুত আরও তিন উইকেট হারায় তারা। মোসাদ্দেকের স্লোয়ারে ম্যাট রেনশ ২ রানে ফেরেন। নাহিদের গতিতে পরাস্ত হয়ে লিয়াম স্কট ২ ও জাভিয়ার বার্টলেট ১ রান করেন। নাহিদ তখন অপেক্ষায় ছিলেন আরও একটি ফাইফারের। তবে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট পাওয়া হয়নি তার। ১০ ওভারে ৪১ রান খরচায় শিকার করেন ৪ উইকেট।

খেলাটা দ্রুতই শেষ হয়ে যেতে পারত। কিন্তু ক্যামেরন গ্রিন দায়িত্ব নিয়ে লেজের ব্যাটারদের সঙ্গে ব্যাটিং করেন। ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা না থাকলেও অনেকটা নেট ব্যাটিংয়ের মেজাজে খেলছিলেন তিনি। নাথান এলিসের সঙ্গে ১৬ এবং অ্যাডাম জাম্পার সঙ্গে ৩৫ রানের জুটি গড়েন গ্রিন।য়ে আনতেই অস্বস্তি শুরু হয় কোনোলি-ইংলিসদের মধ্যে।