ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ১১:৩৪:২৯ AM

চাঁদার দাবি না মানায় খুলনা থেকে চাঁদপুরের ব্যবসায়ীর ১২ বছর বয়সী কন্যা সন্তান অপহরণ

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
16-06-2026 11:54:29 AM
চাঁদার দাবি না মানায় খুলনা থেকে চাঁদপুরের ব্যবসায়ীর ১২ বছর বয়সী কন্যা সন্তান অপহরণ

চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার বস্ত্র ব্যবসায়ী ও মেসার্স সফট ফেব্রিকসের মালিক মারুফুর রহমানের প্রতিবন্ধী ১২ বছর বয়সী কন্যা আমিনা সুলতানকে গত রবিবার, ১৪ জুন, খুলনা জেলার গিলাতলা এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁদার টাকা দিতে পিতা ব্যর্থ হওয়ার পর সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নির্দেশে একদল অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তি এই অপহরণ ঘটায়।

মারুফুর রহমান জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্যবসা শুরু করার পরপরই বাবর ও তার লোকজন প্রথমে তার কাছে চাঁদা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাবর ও তার লোকজন তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। মারুফুর বিষয়টি কচুয়া থানায় জানালে বাবরের নাম শোনার পর পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানান বলে জানা যায়। এরপর নিরাপত্তার আশঙ্কায় মারুফুর ও তার পরিবার খুলনায় এক বন্ধুর বাড়িতে থাকতে শুরু করেন, যেখানে কথিত অপহরণের ঘটনাটি ঘটে। এবারও খুলনার পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাদের সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ রয়েছে। কচুয়া থানা ও খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর চাঁদপুর জেলা যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি। তবে চাঁদপুর সদর, কচুয়া, হাজীগঞ্জ এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলার একাধিক বাসিন্দা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর বাবর নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে যোগ দেন এবং চাঁদপুর জেলার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যেসব ব্যবসায়ী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা এবং এমনকি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হুমকিরও মুখোমুখি হতে হয়।

চাঁদার দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ব্যবসায়ীদের পরিবারের সদস্যদের অপহরণের ক্ষেত্রে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহারে বাবরের জড়িত থাকার বিষয়েও স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বস্ত্র ব্যবসায়ী রেজাউল হকের পরিবারের সঙ্গে পরিচিত চাঁদপুরের এক বাসিন্দা একই ধরনের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন। হক ফেব্রিকসের মালিক রেজাউলের কাছে ১৬ জুলাই ২০২৫ তারিখে চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বাবরের দলের সদস্যরা তার ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে অপহরণ করে বলে অভিযোগ করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের সূত্র জানান, ছেলেকে মুক্ত করার আশায় রেজাউল পরবর্তীতে টাকা দেন, কিন্তু ছেলেটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি এবং জানা গেছে, সে এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া বাসিন্দারা আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কথাও উল্লেখ করেন, যারা হুমকি, সহিংসতা এবং চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে ভুক্তভোগীদের কেউই প্রকাশ্যে বিস্তারিত অভিযোগ করতে রাজি হননি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময়ও বাবর তার রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাবের অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে কচুয়ার বাসিন্দা মরহুম মো. আবুল হাসাম ও তার ছেলে মো. মাহেদী হাসান বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে একটি অভিযোগ দাখিল করেন, যেখানে বাবরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে মো. আবুল হাসামের বিধবা স্ত্রী এবং তাদের বড় ছেলে মো. মানিক মিয়াকে অপহরণের ঘটনায় বাবর ও তার সহযোগীরা জড়িত ছিল; জানা গেছে, তারা দুজনই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন উঠে আসে। তার বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এনসিপি কেন সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা বজায় রাখবে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার বলেন, “বাবর আমাদের দলের নেতৃত্বের কাছে প্রমাণ করেছেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং তিনি একজন দেশপ্রেমিক, যিনি জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করেন। সারা বাংলাদেশে এনসিপি বাবরের মতো বেশ কয়েকজন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রহণ করেছে, যারা আদর্শগতভাবে আমাদের সঙ্গে একমত। তবে আমাদের বিরোধীরা পরিবর্তনে বিশ্বাস করে না এবং আমাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তৈরি করে।”

চাঁদপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব আমানউল্লাহ পাটওয়ারীও বলেন, “এই অভিযোগগুলো সত্য হলে পুলিশ অবশ্যই তদন্ত করত এবং ব্যবস্থা নিত। তারা তা না করায় স্পষ্ট যে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।”