বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরও আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।শনিবার (০৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।এ সময় অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পরও বিপুল অঙ্কের টাকা ভর্তুকি বহন করতে হবে সরকারকে।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে দীর্ঘদিন আমদানিনির্ভর করে রাখা হয়েছিল, যার ফলে রাষ্ট্রকে বড় ধরনের আর্থিক চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের ওপর চাপ কমাতে প্রয়োজনের তুলনায় কম মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ বলেন, দেশের স্থলভাগে (অনশোর) গ্যাস অনুসন্ধান প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার দ্রুত অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।
একইসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন প্রণোদনা বিবেচনা করা হচ্ছে। এমনকি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৈদ্যুতিক বাস চালু করতে চাইলে সরকার সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সময়োপযোগিতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ভর্তুকির বোঝা দীর্ঘদিন বহন করা সম্ভব নয়। সরকারের সামনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তাই একটি ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হয়েছে।ডা. জাহেদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের সুযোগে কেউ যেন অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম না বাড়াতে পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।
নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় রাখার চেষ্টা করছে সরকার।
তিনি বলেন, যারা কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের ওপর সরাসরি বাড়তি চাপ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, ভাতা কর্মসূচি, টিসিবির কার্যক্রমসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঈদের সময় গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ লোডশেডিং, বিদ্যুৎ খাতের সিন্ডিকেট এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিকরা। জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) একটি স্বাধীন সংস্থা। কমিশন শুনানি শেষে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে সরকার ভোক্তাদের চাপ কমাতে কিছু ক্ষেত্রে আপিল করেছে।
বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে পুরো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হঠাৎ বড় ধরনের হস্তক্ষেপ করলে অর্থনীতি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ধীরে ধীরে বিকল্প জ্বালানি উৎস, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অতীতের অনিয়ম ও উচ্চমূল্যের চুক্তিগুলোর বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে। তবে এসব সমস্যার সমাধান একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া এবং এর ফল পেতে সময় লাগবে।