সরকার গঠনের পর রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গিয়েছিল। দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সাংগঠনিক তৎপরতা থাকলেও আগের মতো নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়েনি। তবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নিয়মিত কার্যালয়ে বসা শুরু করার পর ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে নয়া পল্টনের চিত্র। আর গত ২১ আগস্ট থেকে সেই পরিবর্তন যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দলীয় কার্যালয় ও এর আশপাশে প্রতিদিনই বাড়ছে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে নয়া পল্টন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনেক সময় উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলীয় কর্মীদের পাশে থাকা, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় সক্রিয় থাকা এবং দলের সংকটময় সময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে থাকার কারণে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর কাছে রিজভীর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করেন তারা।
শুধু ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, থানা, উপজেলা, জেলা, মহানগর ও শহর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিয়মিত আসছেন নয়া পল্টনে। কেউ আসছেন সাংগঠনিক বিষয়ে পরামর্শ নিতে, কেউ স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি জানাতে, আবার কেউ ব্যক্তিগত কিংবা সাংগঠনিক সমস্যার কথা জানাতে। পাশাপাশি দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন—এমন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীকেও দেখা যাচ্ছে রিজভীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। কেউ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, কেউ আবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছেন।
সব মিলিয়ে রুহুল কবির রিজভীকে ঘিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তৈরি হয়েছে ব্যস্ততার নতুন আবহ। দলের বিভিন্ন কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নানা সমস্যা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনই তাকে ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে।
দলীয় কার্যালয়ে আসা নেতাকর্মীদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন রিজভী। অনেকের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলছেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগও নিচ্ছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার এই সরাসরি যোগাযোগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার প্রবণতা আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ব্যস্ততার কারণে নিজের খাওয়া-দাওয়া ও বিশ্রামের কথাও অনেক সময় ভুলে যাচ্ছেন রিজভী—এমনটাই বলছেন তার সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে আসা নেতাকর্মীরা। তবে দীর্ঘ সময় ধরে শত শত মানুষের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও তার মধ্যে ধৈর্যের ঘাটতি দেখা যায় না বলে তাদের দাবি।
দলীয় কার্যালয়ে আসা কোনো নেতাকর্মী বা শুভাকাঙ্ক্ষীকে কথা না বলে বিদায় দিতে চান না রিজভী। সবার কথা শোনার চেষ্টা করেন, তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ নেন এবং সম্ভব হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা সমাধানের পথ দেখান। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এই ব্যক্তিগত যোগাযোগই তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মনে করেন দলের অনেক নেতাকর্মী।
নয়া পল্টনের সাম্প্রতিক চিত্র তাই শুধু একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাড়তি ভিড়ের ঘটনা নয়; বরং কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি নতুন পরিবেশ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীদের আগমন এবং রিজভীকে ঘিরে তাদের আগ্রহ বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে নয়া পল্টনকে আবারও প্রাণচঞ্চল করে তুলেছে।