ঢাকা, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৩:১৩:৩৩ AM

রিজভীর মহাসচিব হওয়ায় তৃণমূলে স্বস্তি

মান্নান মারুফ
20-08-2026 10:00:11 PM
রিজভীর মহাসচিব হওয়ায় তৃণমূলে স্বস্তি

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, মামলা-হামলা, নির্যাতন ও প্রতিকূলতার সময়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকা রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন দলের মাঠপর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ, প্রত্যাশা ও আশার সঞ্চার হয়েছে।

দলের বিভিন্ন জেলা ও থানা পর্যায়ের ৪৮ জন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে এমন মনোভাবের কথা জানা গেছে। তাদের অধিকাংশই রুহুল কবির রিজভীকে একজন পরীক্ষিত, ত্যাগী, বিচক্ষণ ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা এবং তাদের নানা সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার কারণে তৃণমূলের কাছে রিজভীর একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, গত ১৬ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেপ্তার ও নানা ধরনের হয়রানির মধ্যে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা যেসব নেতাকে নিয়মিত পাশে পেয়েছেন, রুহুল কবির রিজভী তাদের অন্যতম। বিশেষ করে দলীয় কার্যালয়, আদালতপাড়া কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার খবর তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর কাছে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দের বিষয় হয়ে উঠেছে।

তাদের ভাষ্য, বিএনপিতে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতার সংখ্যা কম নয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি অনুগত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য নেতাকর্মী রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন। একই সঙ্গে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল এসব নেতাকর্মী দলীয় নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকেন। তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে—এমন একজন নেতার প্রয়োজন ছিল; সেই বিবেচনায় রিজভীর নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ।

একাধিক নেতাকর্মী বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রিজভী দলের জন্য যে ত্যাগ ও শ্রম দিয়েছেন, মহাসচিবের দায়িত্ব তারই একটি মূল্যায়ন। তাদের ভাষায়, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা নানা সমস্যা নিয়ে তার কাছে আসতেন। মহাসচিব হওয়ার আগে থেকেই তিনি অনেকের সমস্যা শুনেছেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করেছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর তার ওপর দায়িত্ব ও প্রত্যাশা—দুটিই আরও বেড়ে গেছে।

তৃণমূলের কয়েকজন নেতার মতে, রিজভীর সবচেয়ে বড় শক্তি তার সহজে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারার ক্ষমতা। তাদের একজন বলেন, “রিজভীর কাছে গেলে কথা বলা যায়, নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরা যায়। তিনি নেতাকর্মীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।” তবে একই সঙ্গে তারা আশা করছেন, মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন তৃণমূলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগও অব্যাহত রাখেন।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও রুহুল কবির রিজভীর নতুন দায়িত্বকে ঘিরে ইতিবাচক প্রত্যাশার কথা শোনা গেছে। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে দলের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং নতুন দায়িত্বে রিজভীর সফলতা কামনা করেছেন।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন মহাসচিব দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবেন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করবেন এবং মাঠপর্যায়ের সমস্যা ও প্রত্যাশাগুলো দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরবেন।

সব মিলিয়ে রুহুল কবির রিজভীকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলে তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়াকে তারা শুধু একজন নেতার পদোন্নতি হিসেবে নয়, বরং তৃণমূলের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যোগাযোগ আরও দৃঢ় করার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখছেন।