ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৯:১৪:১৫ PM

ছাত্রদলের কমিটিকে ঘিরে আলোচনায় একাধিক নেতা

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
10-07-2026 08:03:44 PM
ছাত্রদলের কমিটিকে ঘিরে  আলোচনায় একাধিক নেতা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা তীব্র হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত করতে বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, ত্যাগী এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের অগ্রাধিকার দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামগুলোর একটি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। তিনি বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াহইয়া এর আগে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

২০২২ সালের ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার মাথায় ১৭টি সেলাই লাগে এবং পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। ২০২৩ সালে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। এছাড়া ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ছাত্রদলের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানেও শাহবাগ, বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি বিষয়ক কর্মসূচিও পরিচালনা করেন।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা আরেক নেতা ইজ্জাজুল কবির রুয়েল। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী রুয়েল এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আউয়াল এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি নিয়মিত অংশ নেন এবং ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মমিনুল ইসলাম জিসান বর্তমানে ছাত্রদলের এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জিসান এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তাকেও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রাখা হয়েছে।

বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানও আলোচনায় রয়েছেন। সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী আমান এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে দুই মাস কারাগারে ছিলেন এবং রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিক মামলা, হামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সংগঠনকে সুশৃঙ্খল করা এবং ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি পরিচালনা করেন।

এছাড়া শরীফ প্রধান শুভ, মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, সাফি ইসলাম, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, খোরশেদ আলম সোহেল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহসের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছে। শরীফ প্রধান শুভ বর্তমানে যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় প্রচার সম্পাদক। ২০১১ সালে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হওয়ার পাশাপাশি একই বছর বিএনপির সমাবেশ থেকে গ্রেপ্তার হয়ে ছয় মাস কারাবন্দি ছিলেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

পদপ্রত্যাশী নেতারা বলছেন, নতুন কমিটিতে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত এবং ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। তাদের মতে, নেতৃত্ব নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের সিদ্ধান্তই সবাই মেনে নেবেন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছাত্রদল অগ্রভাগে ছিল এবং ভবিষ্যতেও দেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়। তার বিশ্বাস, অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রাজপথে পরীক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদেরই মূল্যায়ন করা হবে।

সহসভাপতি ইজ্জাজুল কবির রুয়েল বলেন, নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে এবং বর্তমান কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘সুপার টু’ কিংবা ‘সুপার ফাইভ’—যে কাঠামোই হোক, সেটি সম্পূর্ণভাবে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, কমিটি গঠন একটি ধারাবাহিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা, সংগঠনের ভাবমূর্তি এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় যাদের যোগ্য মনে করা হবে, তাদেরই নেতৃত্বে আনা হবে। তিনি জানান, ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা রয়েছে, তবে কোনো ধরনের বিভেদ বা প্রতিহিংসা নেই। সবাই সংগঠনের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।

সব মিলিয়ে, ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য নেতাদের সমন্বয়ে নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ছাত্রদল নতুন উদ্যমে কাজ করতে পারবে।