আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-কে কেন্দ্র করে শেরপুর জেলায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ময়মনসিংহের রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া শেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা ও ভোটকেন্দ্র সরজমিন পরিদর্শন করেছেন। মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফেরানোই ছিল এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য। ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার সকাল ১১টায় ডিআইজি নকলা থানায় পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল ইসলাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এরপর একটি চৌকস পুলিশ দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
নকলা থানা চত্বরে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া বলেন, “পুলিশের প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
শেরপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তৈরি করা বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা। ভোটগ্রহণের দিন এবং পূর্ববর্তী সময়ে অফিসার ও ফোর্সদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পুলিশ সদস্যদের মনোবল দৃঢ় রেখে কাজ করার নির্দেশনা।
মতবিনিময় সভা শেষে ডিআইজি শেরপুর জেলার সদর ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুঁটিয়ে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি নিম্নোক্ত নির্দেশনাগুলো প্রদান করেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সিসিটিভি কাভারেজ শতভাগ নিশ্চিত করা। ভোটারদের যাতায়াতের পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা দ্রুত অপসারণ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্ট্রাইকিং ফোর্সের অবস্থান নিশ্চিত করা।
পরিদর্শনকালে ডিআইজি স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। তিনি তাদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (স্টাফ অফিসার-টু-ডিআইজি) মোঃ পারভেজ আলম, শেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সোহেল রানা, নকলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ-সহ শেরপুর জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।