ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৪:০৮:২৩ AM

দুর্যোগ অধিদপ্তরে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
17-08-2026 03:49:30 PM
দুর্যোগ অধিদপ্তরে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

লাগাতার অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের (ডিডিএম) প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) রেজওয়ানুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, টেন্ডার ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং একটি কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেছেন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মো. জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তি মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, উচ্চ আদালতের আদেশের ব্যাখ্যা দেখিয়ে ২২৮ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এভাবে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজস্ব খাতে উপসহকারী প্রকৌশলীর ৭৩টি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগের এই অংশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার দাবি, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগের এখতিয়ার সরাসরি অধিদপ্তরের নেই। এ ধরনের নিয়োগ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং অধিদপ্তর কেবল তা বাস্তবায়ন করে। ফলে ২২৮ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে সরাসরি পিআইও পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে মহাপরিচালকের ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়েও মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা হলেও তা বাড়িয়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। একই ঘটনায় নিরীহ ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষেও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রেজওয়ানুর রহমান ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২০ জুন তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি নিজস্ব বলয় তৈরি করে পছন্দের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখছেন এবং বদলি বা পদায়নের আদেশের পরও কিছু কর্মকর্তাকে অধিদপ্তরে রেখে দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছেন।

এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল আলমের নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সিলেটের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হলেও তিনি দীর্ঘ সময় অধিদপ্তরে অবস্থান করে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে পদায়ন, টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য বিষয়ে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ অবশ্য এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

এ ছাড়া অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার, ত্রাণ কার্যক্রম, কেনাকাটা এবং অন্যান্য প্রকল্পে আত্মীয়স্বজনকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে সরকারি অর্থে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেজওয়ানুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, নিয়োগ ও পদায়নের আদেশ, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যেরও যথাযথ ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।