ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:৩৫:১৫ AM

এনার্জিপ্যাককে ফের কাজ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
23-07-2026 08:38:10 PM
এনার্জিপ্যাককে ফের কাজ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক

বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর ৮০০ কোটির বেশি টাকার দুটি প্রকল্পে আগে চুক্তি বাতিল ও কালো তালিকাভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে আবারও কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নেওয়া চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর পরিচালনা পর্ষদের নীতিগত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এনার্জিপ্যাককে পুনরায় দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক চুক্তি অতীতে বাতিল করা হয়েছিল। একই সঙ্গে অন্তত তিন বছরের জন্য সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠানটিকে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্তও ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়িত পাওয়ার ট্রান্সমিশন স্ট্রেন্থেনিং অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন অব রিনিউএবল এনার্জি প্রজেক্ট (পিটিএসআইআরইপি)-এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন দুটি প্যাকেজের আনুমানিক মূল্য যথাক্রমে ৬১২ কোটি টাকা এবং ২০০ কোটিরও বেশি। সব মিলিয়ে প্রকল্প দুটির মূল্য প্রায় ৮০০ কোটির বেশি।

অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে চুক্তি বাতিল হওয়া এবং কালো তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে আবারও কাজ দেওয়ার উদ্যোগ সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান বলেন, প্রকল্পটি এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়িত হওয়ায় ক্রয় কার্যক্রমে দাতা সংস্থার নির্ধারিত ক্রয় নির্দেশিকা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

তিনি বলেন, এডিবির ক্রয় নির্দেশিকায় পূর্বে কোনো প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল হওয়ার কারণে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন দরপত্রে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার বিধান নেই। ফলে কেবল অতীতের চুক্তি বাতিলের কারণ দেখিয়ে এনার্জিপ্যাককে দরপত্রে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রকল্প দুটির কার্যাদেশ শেষ পর্যন্ত কোন প্রতিষ্ঠানের হাতে যায়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের নজর রয়েছে।