ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০১:২৭:৫২ AM

৫ কোটির উন্নয়ন প্রকল্প: ফাঁস হলো গোপন হিসাব

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
17-09-2026 08:35:39 PM
৫ কোটির উন্নয়ন প্রকল্প: ফাঁস হলো গোপন হিসাব

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পাঁচ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সার কাজের প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে।পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য এ প্রাক্কলন ফাঁস করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আর এ সাথে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী, সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম এবং নির্বাহী কর্মকর্তার আনিসুর রহমানের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।
এর আগেও প্রথম দরপত্র আহবান করার সময়ও ৫ কোটি ২৩ লক্ষ ৯ হাজার ১৫ টাকা ২৭৪ পয়সা কাজের প্রাক্কলন ফাঁস করা হয়েছিলো। পরে এনিয়ে সমালোচনা শুরু হলে দরপত্রটি বাতিল করা হয়। তবে পুনরায় দরপত্র আহবান করা হলেও এবারও প্রাক্কলন ফাঁস করা হয়েছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) আওতায় একটি প্যাকেজে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সা ব্যয় নিধারণ করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর দরপত্রটি ইজিপিতে উন্ম্ক্ত হওয়ার আগেই প্রাক্কলন ফাঁস হওয়ায় বিভিন্ন ঠিকাদার এবং পৌর বাসীর মধ্যে ক্ষোপের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় সাত লাখ ৪৩ হাজার ১০০ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পে সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ঠিকাদারকে প্রাক্কলিত টাকার তথ্য জানিয়ে দেন। এর ফলে শুন্য দশমিক ৪১ শতাংশ কম দর দেখিয়ে প্যাকেজের কাজ পায় মেসার্স কাওছার আকবার। তবে এ কাজের মেয়াদ শেষ না হতেই প্রায় অধিকাংশ সড়ক বাতি নষ্ট হলেও পরিদর্শন না করেই উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে পুরো বিল প্রদান করেন সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর ২৫ মে প্রথম দরপত্র আহবান করা হলে সে সময় পাঁচ কোটি ২৩ লক্ষ ৯ হাজার ১৫ টাকা ২৭৪ পয়সা প্রাক্কলন ফাঁস করা হয়। পরে এটি জানাযানি হলে দরপত্রটি বাতিল করে চলতি বছর পুনরায় দরপত্র আহবান করা হয়। তবে এবারও প্রাক্কলনটি ফাঁস করা হয়। প্রথম বার আহবানকৃত দরপত্রটি কি কারণে বাতিল করা হয় তা স্পষ্ট না করেই দ্বিতীয় বার দরপত্র আহবান করা হয়। বর্তমানে দরপত্রটি আনলাইনে ইজিপিতে লাইভে রয়েছে যার দাপ্তরিক প্রাক্কলন ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সা। প্রাক্কলন ফাঁসের বিষয়ে আবারও আলোচনায় আসলে গত ৩ সেপ্টেম্বর দরপত্রটি উন্ম্ক্ত হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় দরপত্রটি উন্ম্ক্ত করা হয়নি।
পৌরসভার সুত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর অর্থবছরে ২০২৪-২০২৫ পৌর শহরের টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি প্যাকেজে টাঙ্গাইল জেলা সদর দপ্তরের ডিসি লেকের সংস্কার, রাস্তার বাতি স্থাপন, হাঁটার পথ (অ্যাম্ফিথিয়েটার ও প্লাজা) নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৮৯ লাখ ৮৬ হাজার ৬০১ টাকা ৬৮ পয়সা। এছাড়া ঢাল সুরক্ষা ও হাঁটার পথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৩০ হাজার ৩৬৯ টাকা ৯৭ পয়সা এবং একই স্থানে সীমানা প্রাচীর, প্রধান প্রবেশদ্বার ও টিকিট কাউন্টার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ লাখ ২১ হাজার ১৬৬ টাকা ৩৪ পয়সা। প্রকল্পের শর্তানুযায়ী ইজিপি (ওটিএম) পদ্ধতির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক একাধিক পৌর কর্মকর্তা বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী এবং সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম তাদের নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্টানকে কাজ দেওয়ার জন্য দরপত্র আহবানের পরপরই প্রাক্কলন ফাঁস করা হয়। গতবছরও প্রাক্কলন ফাঁস হয়েছিল একাধিক ঠিকাদার প্রতিষ্টান রেট কোড দাখিল করার কারণে দরপত্রটি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহবান করা হলে এবারও প্রাক্কলনটি ফাঁস হলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে জানান,নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী এবং সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম এই প্রাক্কলন ফাঁসের সাথে জড়িত। তারা তাদের নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে এ কাজ করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এর আগেও একই কাজে প্রাক্কলনটি ফাঁসের ঘটনা জানাযানি হওয়ার পর পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়।