ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:৩৫:১৫ AM

পাত্তা পাচ্ছে না মোদি,পদত্যাগ চায়‘তেলাপোকা

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
23-07-2026 08:30:34 PM
পাত্তা পাচ্ছে না মোদি,পদত্যাগ চায়‘তেলাপোকা

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তরুণদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তাদের এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এর পাশাপাশি বিক্ষোভ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, কেবল বিচার প্রক্রিয়ার আশ্বাসে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না। তাদের প্রধান দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত দ্য হিন্দু-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী মোদির আশ্বাসের পরও সিজেপি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, সরকারের উচিত ছিল শিক্ষামন্ত্রীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া। তার ভাষায়, “ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করে মোদি পুরো দিল্লিই বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত।”

একই দিনে ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, আন্দোলনকে বিতর্কিত ও ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে লোক এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, গত এক মাস ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চললেও আন্দোলনের ব্যাপ্তি বাড়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

তার অভিযোগ, “আমরা এক মাস ধরে এখানে অবস্থান করছি। এতদিন কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। কিন্তু আন্দোলন বড় হওয়ার পর বাইরে থেকে লোক এনে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।”

এদিকে যন্তর মন্তর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযান চালিয়েছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর যন্তর মন্তরে আবারও জড়ো হন বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারী। তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই।”

তিনি আরও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মোদি বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপেরই একটি অংশ এটি। যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই প্রতিক্রিয়া জানান লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিই দায়ী।

রাহুল গান্ধী লেখেন, “আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি আপনিই নষ্ট করেছেন। আপনি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে দখল ও ধ্বংস করার সুযোগ দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন এবং এর জন্য দায়ীদের রক্ষা করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানালেও কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ফলে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।