ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:৩৬:১১ AM

মানুষের কল্যাণে জয়নুল আবদিন ফারুক

মান্নান মারুফ
23-07-2026 07:54:33 AM
মানুষের কল্যাণে জয়নুল আবদিন ফারুক

পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং মানুষের কল্যাণ—এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। রাজনীতির পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত এই নেতা নিজ নির্বাচনী এলাকায় গেলেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ নেন এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ফলে স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন, বরং একজন জনদরদী, প্রকৃতিপ্রেমী এবং মানবিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসাবে পরিচিত।

চলতি মাসের ২০,২১,২২,২৩ তারিখ টানা চার দিন ধরে তিনি নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবীরাও এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না; এটি মানুষের জীবন, জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ুর জন্যও অপরিহার্য। তাই সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন বলে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পরিবেশ রক্ষার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি। তার এই উদ্যোগকে এলাকার মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং ব্যাপক প্রশংসা করেছেন।

শুধু বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় জয়নুল আবদিন ফারুকের জনসম্পৃক্ততা। নির্বাচনী এলাকায় গেলেই তিনি ছুটে যান সাধারণ মানুষের বাড়িতে। খোঁজ নেন কে কেমন আছেন, কার কী সমস্যা, কার কী প্রয়োজন। অনেক সময় তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠকও করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এতে জনগণ তাদের সমস্যার কথা নির্দ্বিধায় তুলে ধরতে পারেন এবং তিনি সেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও রয়েছে তার বিশেষ নজর। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পরিদর্শন করে তিনি শিক্ষা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন। কোথাও অবকাঠামোগত সমস্যা থাকলে বা শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন হলে তা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি দেশপ্রেম, নৈতিকতা এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দেন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, জয়নুল আবদিন ফারুকের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তিনি মানুষের খুব কাছাকাছি থাকেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থদের খোঁজ নেওয়া, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের বিষয়ে আন্তরিকতা দেখানো এবং পরিবেশ রক্ষায় নিরলস কাজ করাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এ কারণেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে আসছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জয়নুল আবদিন ফারুক এলাকায় এলে কোনো আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন না। তিনি খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রবীণদের সঙ্গে সহজভাবে মিশে যান। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। ফলে সাধারণ মানুষ তাকে নিজেদের একজন বলেই মনে করেন।

পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, জনসম্পৃক্ত নেতৃত্ব এবং মানবিক আচরণের সমন্বয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক আজ এলাকাবাসীর কাছে একজন জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় এবং মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তিনি একই নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবেন।