ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬,
সময়: ১০:০৩:০৯ PM

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: জীবন ও সংগ্রাম

মান্নান মারুফ
29-05-2026 11:51:53 AM
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: জীবন ও সংগ্রাম

৩০ মে এই দিনে শাহাদাৎ বরন করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম । বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম জিয়া। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, দক্ষ সামরিক কর্মকর্তা, সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। দেশপ্রেম, সাহসিকতা, দূরদর্শিতা এবং আত্মত্যাগের জন্য তিনি আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত।
জন্ম ও শৈশবজিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম ছিল “জিয়া”। পিতা মনসুর রহমান ছিলেন একজন রসায়নবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তা। মাতা জাহানারা খাতুন ছিলেন একজন স্নেহশীলা ও ধর্মপ্রাণ নারী। শৈশবের একটি অংশ কেটেছে বগুড়ার গ্রামীণ পরিবেশে এবং আরেকটি অংশ কলকাতায়।
ভারত বিভাগের পর তাঁর পরিবার করাচিতে চলে যায়। সেখানে তিনি একাডেমি স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৫২ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে তিনি করাচির ডি.জে কলেজে ভর্তি হন। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের গুণাবলি প্রকাশ পেতে থাকে।
সামরিক জীবনের সূচনা
১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি, কাকুলে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে একজন দক্ষ ও সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তিনি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগেও দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। খেমকারান সেক্টরে তাঁর নেতৃত্বাধীন ইউনিট অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেয়। সামরিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি ও স্টাফ কলেজে প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭০ সালে তিনি চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে যোগদান করেন। সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছায় এবং বাঙালিদের স্বাধীনতার আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী “অপারেশন সার্চলাইট” নামে বর্বর গণহত্যা শুরু করে। নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নৃশংস হামলা চালানো হলে মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথমে তিনি নিজেই, পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে এবং জাতিকে সাহস জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখেন। পরবর্তীতে “জেড ফোর্স” গঠন করে সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি রৌমারীতে প্রথম বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত করে, যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদক।
স্বাধীনতা-উত্তর সময় ও রাজনৈতিক উত্থান
স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে তিনি ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি ব্রিগেডিয়ার ও মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হন। ১৯৭৫ সালের ২৫ আগস্ট তিনি সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির হয়ে ওঠে। ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতা বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। পরবর্তীতে তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং পরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি দেশকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও একদলীয় ব্যবস্থার কারণে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি রাজনৈতিক দলসমূহকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ”। তিনি বিশ্বাস করতেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিককে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং দেশে সংসদীয় রাজনীতির পুনরুজ্জীবন ঘটে। তাঁর এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে।
রাষ্ট্রদর্শন ও সাংবিধানিক পরিবর্তন
জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন। তিনি সংবিধানের প্রস্তাবনায় “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” সংযোজন করেন এবং “সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” নীতি অন্তর্ভুক্ত করেন।
তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল জাতীয়তাবাদ, আত্মনির্ভরতা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং জনগণের অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় বাস্তববাদী নীতি অনুসরণ করেন এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ১৯ দফা কর্মসূচি
জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো ও গ্রামীণ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে।
তিনি বেসরকারি খাতের বিকাশকে উৎসাহিত করেন এবং জাতীয়করণকৃত অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্বের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেন।
তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি সুপরিকল্পিত রূপরেখা। এর লক্ষ্য ছিল—
ক্স    খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন
ক্স    গ্রামীণ উন্নয়ন
ক্স    জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ
ক্স    শিক্ষার প্রসার
ক্স    নারীর ক্ষমতায়ন
ক্স    যুব উন্নয়ন
ক্স    প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
ক্স    স্বনির্ভর অর্থনীতি গঠন
তিনি জনগণের অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নে বিশ্বাস করতেন। গ্রাম সরকার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠনের মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার চেষ্টা করেন।
তাঁর সময়ে খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ সৃষ্টি করতে তিনি দেশব্যাপী গণসচেতনতা গড়ে তোলেন।
আইন-শৃঙ্খলা ও সামরিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত নাজুক। জিয়াউর রহমান পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করেন এবং তাদের জনবল বৃদ্ধি করেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
তিনি সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। বিভিন্ন অভ্যুত্থান ও বিদ্রোহ মোকাবিলায় তিনি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। যদিও এ কারণে তাঁকে সমালোচনার মুখোমুখিও হতে হয়েছে, তবুও তিনি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। তিনি মুসলিম বিশ্ব, যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন।
তাঁর অন্যতম বড় কূটনৈতিক অবদান ছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি আঞ্চলিক জোট গঠনের ধারণা দেন। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে সার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ তাঁর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অর্জন করে। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়।
ব্যক্তিজীবন
জিয়াউর রহমান ১৯৬০ সালে খালেদা খানমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া নামে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁদের দুই পুত্র—তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো।
পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন সাদাসিধে, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও পরিবার ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের প্রতি তিনি অত্যন্ত যতœশীল ছিলেন।
শাহাদাত ও মৃত্যু
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করে।
তাঁর মরদেহ ঢাকায় এনে শেরেবাংলা নগরে সমাহিত করা হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁর জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
মূল্যায়ন
জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন রাষ্ট্রনায়ক। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সাহসী ভূমিকা, স্বাধীনতার ঘোষণা, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে অবদান, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
তাঁর সমর্থকরা তাঁকে আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম রূপকার হিসেবে বিবেচনা করেন। সমালোচনা ও বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, নেতৃত্বগুণ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” ধারণা আজও দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। তিনি শুধু একজন সামরিক কর্মকর্তা বা রাষ্ট্রপতি নন; তিনি ছিলেন জাতীয় সংকটে নেতৃত্বদানকারী এক সাহসী ব্যক্তিত্ব। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান, রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রদর্শন তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।
মানুষ মৃত্যুবরণ করলেও তাঁদের কর্ম ও আদর্শ ইতিহাসে চিরজীবী হয়ে থাকে। জিয়াউর রহমান তেমনই এক ব্যক্তিত্ব, যিনি বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিতে, শ্রদ্ধায় ও ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবেন যুগের পর যুগ।