ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:৫৮:২৩ AM

সম্পদের পাহাড়, দুর্নীতির অভিযোগে প্রকৌশলী আজিম

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
26-07-2026 02:00:04 PM
সম্পদের পাহাড়, দুর্নীতির অভিযোগে প্রকৌশলী আজিম

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি রাঙামাটি গণপূর্ত সার্কেলের দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি যেসব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেসব জায়গাতেই তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, আনোয়ারুল আজিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিকবার অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ ও তদন্তের পরও তার কর্মজীবনে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ রয়েছে, নিজের পদ ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিকটাত্মীয়দের নামে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ গ্রহণ করে সেগুলো পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঠিকাদারি ব্যবসায় পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের ব্যবহার করে সরকারি প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করে তিনি বিদেশে সম্পদ করেছেন। কানাডায় বাড়ি, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় গার্মেন্টস কারখানা, মিরপুর রূপনগরে একাধিক প্লট, টোলারবাগ এলাকায় বহুতল ভবন এবং উত্তরা এলাকায় বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদের মালিক তিনি। এছাড়া বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার এবং বিদেশ ভ্রমণ নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, আনোয়ারুল আজিম বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও বিল পরিশোধে অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

২০১৫ সালের দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার ও কাজ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় ম্যানুয়াল টেন্ডার প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের পর তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে বদলি হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

সিরাজগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালেও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি আবার গাজীপুরে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন নির্মাণ কাজে কাজের অগ্রগতি ও বিল পরিশোধ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল উত্তোলন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

পরবর্তীতে তিনি পাবনা গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং পরে পাবনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রূপপুর প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজ নিয়েও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে বিরোধ এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে রাঙামাটি গণপূর্ত সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম। অভিযোগকারীদের দাবি, এখানেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার ও পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথি, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রয়োজন।

দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এবং তার বক্তব্যই চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।