ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৩:০০:১৫ AM

অসমাপ্ত কাজেই বিল, অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
26-07-2026 01:43:58 PM
অসমাপ্ত কাজেই বিল, অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে কমিশনের বিনিময়ে কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার এপিপি (বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা) বরাদ্দের বিভিন্ন কাজের দরপত্র আহ্বান করে কাজের অগ্রগতি যাচাই না করেই সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কাজের স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজের অসম্পন্নতার চিত্র পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর অধীনে পাঁচটি পৃথক দরপত্রের মাধ্যমে এসব কাজ আহ্বান করা হয় এবং অর্থবছরের শেষ সময়ে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

দরপত্র আইডি নং ১২৩৬২৩৯-এর আওতায় ইস্কাটন গার্ডেন সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার্সের অরুণিমা-নিহারিকা ক্যাম্পাসের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণ এবং উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, কাজটি ২০২৬ সালের ২৩ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থবছর শেষ হওয়ার পর সরেজমিনে পরিদর্শনে কাজটি অসম্পন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। অথচ সরকারি নথিতে কাজটি সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একইভাবে দরপত্র নং ১২৩৬১৩০-এর মাধ্যমে ইস্কাটন গার্ডেন সরকারি কর্মকর্তা কোয়ার্টারের সোনালী-রূপালী ক্যাম্পাসের সামনের জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় ৪০ লাখ টাকার কাজ গ্রহণ করা হয়। এই কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে কাজ শেষ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র নং ১২৭৫৪০২-এর মাধ্যমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ম ও ৯ম তলার ক্ষতিগ্রস্ত এসএস কলাম গার্ড এবং ভাঙা টাইলস পরিবর্তনের জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকার কাজ আহ্বান করা হয়। দরপত্র অনুযায়ী, কাজটি ২০২৬ সালের ১৪ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, কলামের ভাঙা টাইলস পরিবর্তন করা হয়নি এবং এসএস কলাম গার্ডগুলোতেও মরিচা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কাজ সম্পন্ন না হলেও এর বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

মুগদা হাসপাতালের আরেকটি দরপত্র নং ১২৭৫৪৭৮-এর আওতায় ডেঙ্গু বিস্তার রোধে ড্রেন মেরামত ও সংস্কার, সেপটিক ট্যাংক, সোক-ওয়েল ও ইন্সপেকশন পিট পরিষ্কার ও মেরামত, সয়েল পাইপ পরিষ্কার এবং ভবনের আশপাশের আবর্জনা ও আগাছা পরিষ্কারের জন্য প্রায় ১৪ লাখ টাকার কাজ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই কাজের বিলও অর্থবছরের শেষ সময়ে সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়েছে। তবে হাসপাতাল এলাকার আশপাশে এখনো ময়লা-আবর্জনা ও অপরিষ্কার পরিবেশ দেখা গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মুগদা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনের ক্ষতিগ্রস্ত ও জলমগ্ন বিটুমিনাস কার্পেটিং সড়ক এবং পার্কিং এলাকার মেরামতের জন্য দরপত্র আইডি নং ১২৭৫৬৩৮-এর মাধ্যমে প্রায় ২৪ লাখ টাকার কাজ আহ্বান করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কাজটি সরকারি নথিতে সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হলেও সরেজমিনে পার্কিং এলাকার কিছু অংশে এখনো বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের কাজ অসম্পন্ন রয়েছে।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, এসব কাজে কাজের অগ্রগতি যাচাই না করেই ঠিকাদারদের অগ্রিম বিল পরিশোধ করা হয়েছে এবং এর বিনিময়ে কমিশন নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়গুলো এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।

সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী, কাজের মান ও সম্পন্নতার যাচাই ছাড়া বিল পরিশোধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।