ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:৩৬:১০ AM

নয়াপল্টনে রিজভীকে ঘিরেই কর্মীদের ভিড়

মান্নান মারুফ
23-07-2026 01:37:48 PM
নয়াপল্টনে রিজভীকে ঘিরেই কর্মীদের ভিড়

রাজধানীর নয়াপল্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এখনও আগের মতোই কর্মী-সমর্থকদের পদচারণা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ নানা সমস্যা, প্রত্যাশা এবং দলীয় বিষয় নিয়ে ভিড় করেন এই কার্যালয়ে। আর সেই ব্যস্ততার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতেই সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন রুহুল কবির রিজভী। সালামের জবাব দেওয়ার পর কুশল বিনিময়ের একপর্যায়ে জানতে চাওয়া হয়, কেমন আছেন তিনি। জবাবে রিজভী বলেন, "ভালো আছি। দলের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আগেও যেমন ছিলাম, এখনও তেমনই আছি। শুধু স্বৈরশাসনের নির্যাতনটা আর নেই।"

তিনি বলেন, বিএনপি দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। ফলে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নানা ধরনের সমস্যা নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আসেন। কেউ ব্যক্তিগত সংকট নিয়ে, কেউ আবার নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক জটিলতা বা দলীয় বিরোধের সমাধান চাইতে আসেন।

রিজভীর ভাষায়, "প্রতিদিন অনেক মানুষের কথা শুনতে হয়। যতটা সম্ভব তাদের সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করি। এ কারণেই নিয়মিত নয়াপল্টনে আসি। দলের অনেক কাজ থাকে। আগেও যেমন দায়িত্ব পালন করেছি, এখনও দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।"

তিনি জানান, গত প্রায় ১৬ বছরে রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী নানা ধরনের নির্যাতন, মামলা, কারাবরণ এবং আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন। অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের স্বজনেরা এখনও দলীয় কার্যালয়ে এসে নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।

রিজভী বলেন, "অনেক মা তার সন্তান হারিয়েছেন, আবার অনেক সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছে। তাদের কথা শুনতে হয়। দীর্ঘদিন কারাভোগের কারণে অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে। কেউ আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তাদের কষ্টের কথা শুনি, যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।"

তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষ এমনও আছেন, যারা বিভিন্ন কারণে তাদের এলাকার সংসদ সদস্য, মন্ত্রী বা প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তারা আশ্রয় খুঁজে নেন নয়াপল্টনের এই দলীয় কার্যালয়ে।

"অনেকে মনে করেন, কাউকে না পেলেও অন্তত রুহুল কবির রিজভীকে পাওয়া যাবে। নিজের দুঃখ-কষ্টের কথা বলা যাবে। মানুষ আসলে সহানুভূতি চায়, ভালোবাসা চায়। এখানে আসলে অন্তত সেই সান্ত্বনাটুকু দেওয়ার চেষ্টা করি। তাদের কথা মন দিয়ে শুনি। অনেক সময় শুধু মনোযোগ দিয়ে কথা শুনলেই মানুষ স্বস্তি পায়," বলেন তিনি।

তার মতে, প্রতিদিনই কেউ সন্তানের শিক্ষা বা চাকরির সমস্যা নিয়ে আসেন, কেউ চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আবার কেউ জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক জটিলতা কিংবা এলাকার দলীয় কমিটি গঠন ও সাংগঠনিক বিরোধ নিয়ে পরামর্শ চান।

রিজভী বলেন, "এ ধরনের নানামুখী সমস্যার সমাধান করাই এখন আমার প্রতিদিনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি। সবাইকে হয়তো প্রত্যাশিত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় না, তবে চেষ্টা করি কাউকে যেন নিরাশ হয়ে ফিরতে না হয়।"

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে শুধু ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক সমস্যা সমাধানই নয়, সারাদেশে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমও নিয়মিত তদারকি করতে হয়। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতারা যোগাযোগ করেন। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং দলের বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতেও প্রতিদিন ব্যস্ত থাকতে হয়।

রিজভীর মতে, রাজনীতির মূল শক্তি জনগণ। তাই সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং তাদের কথা শোনা একজন রাজনৈতিক নেতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেন, "দলের রাজনীতি শুধু কর্মসূচি ঘোষণা বা বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের কথা শোনা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করাও রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ।"

দিনের শুরু থেকে একের পর এক সাক্ষাৎ, দলীয় বৈঠক, সাংগঠনিক আলোচনা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়েই কেটে যায় তার কর্মদিবস। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যার কথাও মনোযোগ দিয়েই শোনেন তিনি।

এভাবেই প্রতিদিনের মতো ব্যস্ততা শেষ হয় সন্ধ্যার দিকে। তবে পরদিন আবারও একই ছন্দে শুরু হয় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্মচাঞ্চল্য। দলীয় কার্যক্রম, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং মানুষের প্রত্যাশার সমন্বয় ঘটিয়ে রুহুল কবির রিজভীর দিন কাটে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে ঘিরেই।