ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৪:৩৫:২৫ PM

যে মুসলিম নারীর ত্যাগে আজকের তারকা ইয়ামাল

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
21-07-2026 08:29:47 PM
যে মুসলিম নারীর ত্যাগে আজকের তারকা ইয়ামাল

বিশ্ব ফুটবল এখন যার নামে মাতামাতি, সেই লামিন ইয়ামালের সাফল্যের পেছনে শুধু প্রতিভা নয়, রয়েছে এক পরিবারের অশ্রু-ঘাম আর অদম্য লড়াই। বার্সেলোনা ও স্পেনের জার্সিতে মাঠ কাঁপানো এই তরুণ তারকা যখন গোল উদযাপন করেন, তখন তার চোখে ভেসে ওঠে শৈশবের সেই কঠিন দিনগুলো এবং এক নারীর অসীম ত্যাগ। কয়েক দশক আগের কথা। মরক্কোর এক সাধারণ নারী ফাতিমা রোমানি স্বপ্ন দেখলেন পরিবারের জন্য উন্নত জীবনের। কোনো আইনি কাগজপত্র বা অর্থ ছাড়াই তিনি একাই পাড়ি দিলেন অচেনা স্পেনের উদ্দেশে। প্রথমে আলজেসিরাস ও গ্রানাদায় কাটিয়ে শেষমেশ থিতু হলেন কাতালুনিয়ার মাতোরো শহরের রকাফোন্দা এলাকায়। সেখানে কোনো নিরাপত্তা বা সঞ্চয় ছিল না। তবু হাল ছাড়েননি ফাতিমা। দিন-রাত এক করে একাধিক শিফটে কাজ করতে শুরু করলেন। জমানো প্রতিটি টাকা দিয়ে ধীরে ধীরে মরক্কোয় রেখে আসা সন্তানদের কাছে টেনে আনলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউইও। এভাবেই আবার এক হয়ে গেল ছড়িয়ে পড়া পরিবার।

ইয়ামালের ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে গেলে আবারও সবার আগে এগিয়ে এলেন দাদি ফাতিমা। রকাফোন্দার চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে তিনি নাতিকে আগলে রাখলেন, মানসিক স্থিরতা দিলেন এবং ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করলেন।

আজ যখন লামিন ইয়ামাল বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার, তখনও তিনি নিজের শিকড় ভোলেননি। মাঠে গোল করার পর আঙুল দিয়ে ‘৩০৪’ দেখানো তার জন্য শুধু উদযাপন নয়, বরং রকাফোন্দার পোস্টকোড ০৮৩০৪-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।

সাফল্যের পর ইয়ামাল তার অর্জিত অর্থ দিয়ে দাদি ফাতিমার জন্য রকাফোন্দাতেই একটি বাড়ি কিনে দিয়েছেন, যেখানে তিনি এখনও শান্তিতে বাস করছেন। তারকা বলেন, “ট্রফি জেতার চেয়ে বড় আনন্দ আমার বাবা-মা ও দাদিকে সুখী রাখতে পারা।”