ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
সময়: ১২:৩১:১৯ AM

ইব্রাহিম-রিয়াজ বাহিনীর বিরুদ্ধে ৪০ পরিবারের মানববন্ধন

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
12-06-2026 06:00:00 AM
ইব্রাহিম-রিয়াজ বাহিনীর বিরুদ্ধে ৪০ পরিবারের মানববন্ধন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় কথিত ইব্রাহিম-রিয়াজ বাহিনীর বিরুদ্ধে লুটপাট, দখল, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ৪০টি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।১১ জুন সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পল্লবী এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক ইব্রাহিম খলিল, বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মো. রিয়াজ এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. ফাইয়াজ (মুন্না) দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি দখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, মালামাল লুটপাট এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন মামলাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে বেশ কয়েকটি পরিবারকে টার্গেট করে। এসব পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়। তাদের দাবি, রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে অভিযুক্তরা এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন এবং এলাকায় এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “হযরত শাহ আলী এন্টারপ্রাইজ”-এ হামলা চালিয়ে নতুন মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়। একইভাবে “বেনারশী শাড়ি সিল্ক হাউজ” নামের একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে শাড়ি, ওড়না, নগদ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

এছাড়া একটি অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে ছয়টি অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একটি রানার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, এসব ঘটনায় তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তারা।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, একটি দোকান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করা হলেও সেই অর্থ যথাযথ খাতে ব্যয় না করে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দখলকৃত কিছু বাড়িঘরে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের নানা ধরনের ভয়ভীতি, হুমকি ও প্রাণনাশের আশঙ্কার মধ্যে থাকতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও হয়রানি এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা এতটাই বেড়েছে যে অনেক পরিবার স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

বক্তারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে।

মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়। তারা দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যদের প্রতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

ভুক্তভোগীদের মতে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান আতঙ্ক ও অস্থিরতার অবসান ঘটবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাবে।

উল্লেখ্য, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিযোগের সমর্থনে বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণাদি জমা দেওয়ার কথাও জানান। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।