ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
সময়: ১১:৪৫:৪৫ PM

সংগ্রাম,ত্যাগের প্রতীক:টুকুর রাজনৈতিক পথচলা

মান্নান মারুফ
06-06-2026 11:45:45 PM
সংগ্রাম,ত্যাগের প্রতীক:টুকুর রাজনৈতিক পথচলা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম, দলীয় আনুগত্য এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের জন্য পরিচিত একটি নাম সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসা এই নেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কারাবরণ, মামলা, রিমান্ড এবং নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হননি। এ কারণেই বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি একজন সংগ্রামী ও সাহসী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইলের একটি সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক পরিবেশ থেকেই তিনি রাজনৈতিক চেতনা ও নেতৃত্বের শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর বড় ভাই আবদুস সালাম পিন্টু বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে সুপরিচিত একজন নেতা এবং সাবেক উপমন্ত্রী। রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় টুকুও নিজেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের কারণে আলোচনায় আসেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি দ্রুতই তাঁকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতিতে সফল নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। যুবসমাজকে সংগঠিত করা, রাজনৈতিক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং দলের সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি যুবরাজনীতিতে তাঁকে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বে পরিণত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অস্থির সময়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর রাজনৈতিক জীবন সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁকে একাধিক মামলার সম্মুখীন হতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় আদালত, কারাগার ও পুলিশি রিমান্ডের মধ্যে কাটাতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের মতে, এমন সময়ও ছিল যখন আদালতে হাজিরা, কারাগারে অবস্থান কিংবা আইনগত লড়াইয়ের বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের জন্য খুব সামান্য সময়ই অবশিষ্ট থাকত। তবে এসব প্রতিকূলতা তাঁর রাজনৈতিক মনোবলকে দুর্বল করতে পারেনি। বরং তিনি আরও দৃঢ়ভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকেছেন এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করেছেন।

দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি তাঁর বিশ্বস্ততা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সামনের সারির একজন নেতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। দলের সংকটময় সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি তাঁকে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের কাতারে স্থান করে দিয়েছে।

বর্তমানে তিনি বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা তাঁকে দলের অন্যতম কার্যকর নেতায় পরিণত করেছে।

রাজনীতির পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্কের কথা প্রায়ই আলোচিত হয়। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিয়মিত এলাকায় যান এবং জনগণের খোঁজখবর নেন। এলাকার মানুষ জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তাঁকে কাছে পাওয়ার আশায় অনেকেই অপেক্ষায় থাকেন। কারণ ওই সময় তিনি এলাকার বিভিন্ন গ্রাম ও মহল্লায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের সমস্যা-সম্ভাবনার কথা শোনেন।

জনগণের প্রতি তাঁর এই সংযোগ কেবল আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি অনেক সময় নিজে গাড়িতে কিংবা হেঁটে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেন। অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রমে তাঁর অবদান সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে।

বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ড স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা পায়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস ও বস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি নিয়ে আসে। অনেক পরিবার, যারা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়, তাঁর এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি একটি গভীর আস্থা ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক জাতীয় রাজনীতিতেও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ লাভ করেন। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এলাকার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাই, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-মোকদ্দমা এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আজও সক্রিয় রাজনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর সমর্থকদের মতে, তিনি এমন একজন নেতা যিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলীয় আদর্শ ও রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে সরে যাননি। অন্যদিকে সমালোচকরাও স্বীকার করেন যে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংগঠক হিসেবে নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

সব মিলিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে সংগ্রাম, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উত্তরণ, রাজনৈতিক প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করার মানসিক শক্তি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাঁকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান এনে দিয়েছে। তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা দেশের রাজনীতিতে আরও কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।