ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৪:২৯:৩৩ AM

রাজননীতির কেন্দ্রবিন্দুতে জনপ্রিয় আফরোজা আব্বাস

মান্নান মারুফ
26-02-2026 10:34:38 PM
রাজননীতির কেন্দ্রবিন্দুতে জনপ্রিয় আফরোজা আব্বাস

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আফরোজা আব্বাস। দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে মুখে এখন একটি বিষয়ই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে—তিনি সংসদ সদস্য হচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভায়ও স্থান পেতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবুও দলীয় অভ্যন্তরে এমন প্রত্যাশা ও আলোচনা জোরালো হয়েছে বলে জানা যায়। গৃহিণী থেকে রাজনীতির অগ্রভাগে উঠে আসা আফরোজা আব্বাস বাংলাদেশের নারী রাজনীতিতে এক সুপরিচিত নাম। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন শক্তিশালী সংগঠক হিসেবে। প্রায় দেড় দশক ধরে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল–এর নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং দলকে সুসংগঠিত ও সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহিলা শাখা সংগঠন। ১৯৭৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দলের আদর্শ তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সময়ের প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও সংগঠনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে সভাপতি হিসেবে আফরোজা আব্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সুলতানা আহাম্মেদ দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১০ সালের মার্চ মাসে নূর-ই-আরা সাফা সভাপতি এবং শিরিন সুলতানা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

আফরোজা আব্বাসের রাজনৈতিক জীবন নানা চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ। দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার সময় তিনি একাধিকবার আইনি জটিলতার সম্মুখীন হন। ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ হাইকোর্ট তাকে ও সুলতানা আহাম্মেদকে জামিন প্রদান করেন। একই বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বিএনপির রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস–এর সহধর্মিণী।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতার কারণেই তাকে সংসদ সদস্য ও সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলা দলের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখা, জেলা ও মহানগর কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় উপস্থিতি তাকে দলের ভেতরে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।

২০১৩ সালের ৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইলে একটি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে সংগঠনের একটি অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। এসব ঘটনার মধ্য দিয়েও সংগঠনকে টিকিয়ে রাখা এবং সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখার চেষ্টা ছিল নেতৃত্বের বড় চ্যালেঞ্জ।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সরকারের সমালোচনা করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান, মূল্যস্ফীতিসহ নানা ইস্যুতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সফর—সব মিলিয়ে আফরোজা আব্বাসকে একজন সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। আপাতত এসব আলোচনা দলীয় কর্মীদের প্রত্যাশা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি সম্ভাবনার পর্যায়েই থাকবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, আফরোজা আব্বাসের রাজনৈতিক যাত্রা সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সমৃদ্ধ। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি সংসদ সদস্য বা মন্ত্রিসভায় স্থান পান কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে দলীয় পর্যায়ে তার প্রতি যে আস্থা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।