মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আপন ভাতিজার জমি আত্মসাৎ ও তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। তাঁর ভাতিজা রাসেল সাহিন অভিযোগ করেছেন, জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর থেকেই চাচা তাঁকে নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
রাসেলের অভিযোগ, দুবাইয়ে কর্মরত অবস্থায় দেশে জমি কেনার জন্য তিনি দীর্ঘদিন চাচার কাছে টাকা পাঠিয়েছেন। সেই অর্থে আট কানাল জমি কেনার কথা থাকলেও পরে জানতে পারেন, জমির দলিলে তাঁর পরিবর্তে আতিকুর রহমানের নাম রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে চাচা জমি বা টাকা কোনোটিই ফেরত দিতে রাজি হননি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কাছে প্রতিকার চাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বলে জানান রাসেল। তাঁর অভিযোগ, আতিকুর রহমান একপর্যায়ে শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. তোফাজ্জল হোসেন তাঁর ভাইয়ের মতো ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেন। ওই নেতার সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব দেখিয়ে রাসেলকে জমির দাবি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নিলে তাঁকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়।
রাসেল জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাচার বিরুদ্ধে এলাকার কেউ সহজে কথা বলতে সাহস পান না। নিজের পাওনা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। পরে ২৭/০৪/২০২৩ তারিখে শ্রীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে তাঁর দাবি।
রাসেলের অভিযোগ, পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগে তাঁর অর্থ আত্মসাৎ করার পর এখন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাঁকে ন্যায্য দাবি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজের সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।