ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ১২:০৪:০৫ AM

২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাত, দুদকের মামলা

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
21-10-2026 11:37:25 AM
২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাত, দুদকের মামলা

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখা এবং বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আগ্রাবাদ কনভেনশন হলের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফাহিম আহমেদ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার, নথি জালিয়াতি, সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে রাখা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া এবং অন্যদের লাভবান করার উদ্দেশ্যে জাল ও ভুয়া রেকর্ডপত্র ব্যবহার করেন। এসব নথির মাধ্যমে তাঁরা চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ২৪ দশমিক ৯৬ শতক সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি জমির বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করে জালিয়াতি ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে তাঁরা মোট ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি জমি ও ভাড়া বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি তদন্তের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন শাহ-আলম ফারুক
অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক চৌধুরী গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে টানা পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময়ে গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর দায়িত্ব পালনকাল এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি এ ঘটনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলীর বরাতে জানা গেছে, শাহ-আলম ফারুক চৌধুরী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যথাযথ অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিনি ইতোমধ্যে কানাডায় চলে গেছেন। তবে তাঁর বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সরকারি দায়িত্বে থাকা একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, নথি জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ, জমির সঠিক নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ এবং বকেয়া ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

যেসব ধারায় মামলা হচ্ছে
দুদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত আটজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ৪২০ ধারায় প্রতারণা, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় জাল দলিল তৈরি, ৪৭১ ধারায় জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহার এবং ১০৯ ধারায় অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারাও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে মামলা দায়েরের অনুমোদন পাওয়া মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের দায় নির্ধারিত হবে।

সরকারি জমি অবৈধ দখল ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।