ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০২:১০:৫৫ AM

জামায়াতবিরোধী অভিযানে পুলিশের গুলিতে ছাত্রশিবির কর্মী নিহত

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
14-12-2022 07:29:23 PM
জামায়াতবিরোধী অভিযানে পুলিশের গুলিতে ছাত্রশিবির কর্মী নিহত

কানাইঘাট, সিলেট: সোমবার, ১২/১২/২০২২ তারিখে কানাইঘাট উপজেলার চাতুল বাজার এলাকায় পুলিশের এক অভিযানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কানাইঘাট শাখার কর্মী এবং মোঃ মীর মাহমুদের ছেলে বেলাল মাহমুদ (২৫) নিহত হন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য ও কর্মীদের বিরুদ্ধে চলতি মাসে কানাইঘাট থানা পুলিশের পরিচালিত এটি ছিল তৃতীয় অভিযান।

কানাইঘাট থানার অফিসার-ইন-চার্জ লোকমান হোসাইনের ভাষ্যমতে, পলাতক জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কর্মীর অবস্থান ও গোপন আস্তানা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল মাহমুদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১২/১২/২০২২ তারিখে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সন্দেহভাজন স্থানগুলো শনাক্ত করা এবং পলাতক কর্মীদের খুঁজে বের করতে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য অভিযানের সময় বেলালকে সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল।

ওসি লোকমান হোসাইন জানান, পুলিশ দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বেলাল একজন পুলিশ সদস্যকে কাবু করে তার আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়, অন্য পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়। পালানোর চেষ্টার সময় পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে বেলাল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং তাদের কাউকে আটক করা যায়নি।

এর আগে ১৯/০৯/২০২২ তারিখে পুলিশের এক অভিযানে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের আরও সাতজন কর্মীর সঙ্গে বেলাল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই সময় পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে বেলাল কানাইঘাট থানার উপ-পরিদর্শক মুহাম্মদ জিলানীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আহত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওসি লোকমান হোসাইন আরও জানান, বেলাল এবং গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্য আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ০৪/১২/২০২২ এবং ০৯/১২/২০২২ তারিখে কানাইঘাটের বিভিন্ন এলাকায় আরও দুটি অভিযান পরিচালনা করে। ওই দুই অভিযানে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের আরও চারজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে বেলালের বাবা মোঃ মীর মাহমুদ দাবি করেন, তার ছেলে নির্দোষ ছিল এবং শুধুমাত্র ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ হেফাজতে তার ছেলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আটক থাকা অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের বেলালের সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও পুলিশ দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

মীর মাহমুদ বলেন, “আমি জানি, আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আমার ছেলের জন্য আমাকে ন্যায়বিচার দেবেন, হয় এই দুনিয়ায়, নয়তো আখিরাতের ময়দানে।” তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলে একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিল। এমন মৃত্যু পাওয়ার মতো কোনো কাজ সে করেনি।”

সিলেট জেলা উত্তর জামায়াতে ইসলামীর আমীর হাফিজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খানসহ জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা ও কর্মী ১৩/১২/২০২২ তারিখে আগফৌদ কবরস্থানে অনুষ্ঠিত নিহত বেলাল মাহমুদের জানাজায় অংশ নেন।

মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খান বলেন, “আমাদের সহযোদ্ধার এই মৃত্যুর বিচার অবশ্যই হবে।” তিনি আরও বলেন, “যারা এর জন্য দায়ী, একদিন তাদের অবশ্যই নিজেদের অপরাধের মূল্য দিতে হবে।”