ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৯:৩৭:৩২ PM

গণপূর্তের সাইফুরের সম্পদের সাম্রাজ্য

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
07-09-2026 08:27:51 PM
গণপূর্তের সাইফুরের সম্পদের সাম্রাজ্য

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে বর্তমানে খুলনা জোনের দায়িত্বে রয়েছেন সাইফুর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, প্রভাবশালী ঠিকাদার জিকে শামীম ও গোল্ডেন মনিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নামে-বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাইফুর রহমান আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং পরবর্তীতে বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের একটি বলয় তৈরি করেন। বিশেষ করে আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে তাঁর সময়ে ঠিকাদারি ‘সিন্ডিকেট’ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে বলে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, নির্দিষ্ট কমিশন ছাড়া বিভিন্ন ফাইলে অনুমোদন বা স্বাক্ষর পাওয়া কঠিন ছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

আজিমপুরে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমানে তাঁর নামে-বেনামে অর্ধশতাধিক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও মিরপুরে দুটি বিলাসবহুল বাড়ি, পূর্বাচলে প্লট, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এলাকায় একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি এবং বাজার রোডে তিনতলা একটি মার্কেটের তথ্য পাওয়া গেছে। মার্কেটটি তাঁর ভাইয়ের নামে বলে দাবি করেছেন সাইফুর রহমান।

এ ছাড়া টাঙ্গাইলের সালাউদ্দিন সেনানিবাস মোড় এলাকায় আগে একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশন এবং বর্তমানে সেখানে ‘সোনারতরী পার্ক’ নামে একটি স্থাপনা রয়েছে বলেও অনুসন্ধানে তথ্য মিলেছে। এর কাছাকাছি প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের জমিতে ‘কাঠবাদাম’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যেখানে তাঁর মেয়ে বসবাস করেন—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর আর্থিক সম্পর্ক যাচাই করা জরুরি।

সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন দমনে অর্থ জোগানের অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি গোল্ডেন মনির ও জিকে শামীমের অর্থায়নে ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের কথাও বিভিন্ন মহলে শোনা যায়। তবে এসব গুরুতর অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এই অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাইফুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে জানতে চাইলে তিনি টাঙ্গাইলের সম্পদগুলো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এবং এজমালি সম্পদ বলে দাবি করেন। অন্য অভিযোগগুলো সত্য নয় বলেও তিনি জানান।

সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা, তাঁর সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ এবং সম্পদ অর্জনের উৎস নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।