বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ও উপ-মহাসচিব পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রচলিত নিয়োগপ্রক্রিয়া, বিজ্ঞপ্তি ও যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অতীত নিয়েও আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মহাসচিব পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি অতীতে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভ্যাকসিন ক্রয়সহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও তাঁর নাম বিভিন্ন মহলে আলোচিত ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন ব্যক্তিগত সহকারী (পিআরও/সহযোগী হিসেবে পরিচিত) জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা বলা হচ্ছে।
নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিযোগিতামূলক বাছাই নিয়ে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল পদে ২০২৬ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, ২০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা, ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং আবেদনপত্র জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ ছিল।
এ অবস্থায় মহাসচিব ও উপ-মহাসচিব পদে ঠিক কোন বিধি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন গ্রহণ, যোগ্যতা যাচাই, সাক্ষাৎকার বা বাছাই কমিটির সুপারিশের কোনো ধাপ অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।
এদিকে ২০২৬ সালের জুনে সরকার বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালামকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেয়। একই সময়ে ১৪ সদস্যের একটি নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটিও গঠন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের অনেককে বিবেচনায় না নিয়ে বিতর্কিত রাজনৈতিক অতীত রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে আনা হয়েছে। এমনকি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার জনশ্রুতিও রয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রামাণ্য নথি বা স্বাধীন তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিয়োগের বৈধতা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—কোন আইনি ক্ষমতাবলে, কী প্রক্রিয়ায় এবং কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে? স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন, বাছাই কমিটির কার্যবিবরণী এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।