রেড ক্রিসেন্টে ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল পদে অবসরপ্রাপ্ত সচিব এহসান এলাহীর নিয়োগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফারূক মাহমূদের একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, নিয়োগ নীতিমালা উপেক্ষা করে এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারে অংশ না নিয়েই তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
পোস্টটিতে এহসান এলাহীর কর্মজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের দাবি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি প্রশাসনের মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালে তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন—বিআরটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন—বিসিআইসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয় তাঁকে। একই বছরের জুনে সচিব পদে পদোন্নতির পর তিনি ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর ২০২১ সালের আগস্টে এহসান এলাহী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, শ্রমনীতি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন শ্রম অসন্তোষ মোকাবিলায় তিনি তৎকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়া তাঁর অবসরোত্তর নিয়োগ নিয়েও পোস্টটিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁকে আরও ছয় মাসের জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়।
এসব ধারাবাহিক নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে লেখক এহসান এলাহীর সঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে রেড ক্রিসেন্টে তাঁর বর্তমান নিয়োগকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও পুরোনো প্রশাসনিক বলয়ের প্রভাব বহাল থাকার উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কিংবা নিয়োগে অনিয়মের মতো গুরুতর বিষয়কে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ নীতিমালা, সাক্ষাৎকারের রেকর্ড এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় মূল প্রশ্নটি তাই শুধু এহসান এলাহীর পূর্ববর্তী দায়িত্ব নয়; বরং রেড ক্রিসেন্টের মতো একটি মানবিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ছিল—সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।