ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৯:২৬:০৩ PM

ডিপিএইচইতে ক্ষমতার কেন্দ্রে আবদুল আউয়াল

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
17-08-2026 07:25:20 PM
ডিপিএইচইতে ক্ষমতার কেন্দ্রে আবদুল আউয়াল

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) দেশের নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। অথচ প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো, পদায়ন ও বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুল আউয়াল।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা আবদুল আউয়াল রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। তার বিরুদ্ধে পদায়ন ও পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, বদলি ও দায়িত্ব বণ্টনে প্রভাব বিস্তার এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ফাইল নিষ্পত্তিতে ঘুষ দাবির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সবগুলো এখনো স্বাধীন তদন্ত বা আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সরকারি তদন্ত, নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ জরুরি।

অল্প সময়ে শীর্ষ পদে উত্থান

ডিপিএইচইর সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমানে মো. আবদুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ত) পদেও দেখানো হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর তাকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন তিনি ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এ নিয়োগ নিয়ে ডিপিএইচইর অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে তাকে শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার আগে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ২৬ জন কর্মকর্তা ছিলেন।

তবে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট সরকারি তালিকা, পদায়নের বিধিমালা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ আদেশের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে যাচাই না করে এটিকে ‘নিয়মবহির্ভূত’ বা ‘অবৈধ’ বলে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করা সমীচীন নয়।

নিয়োগ ঘিরে কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ

আবদুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো আর্থিক লেনদেনের।

ডিপিএইচইর একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। তবে আপনার দেওয়া প্রতিবেদনে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার লেনদেনের কথা বলা হয়েছে। এই ৩৫ কোটি টাকার দাবির পক্ষে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে প্রতিবেদনে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন না করে অভিযোগ হিসেবেই রাখা প্রয়োজন।

কিছু প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার বিভাগের তৎকালীন সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে। কিন্তু এ অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগটি যাচাই করা প্রয়োজন।

সরকারি ওয়েবসাইটে একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

আবদুল আউয়ালের বর্তমান প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের অন্যতম কারণ হলো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে থাকা।

ডিপিএইচইর সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকায় তাকে প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ত)—উভয় পদেই দেখানো হয়েছে।

এ ছাড়া ডিপিএইচইর ময়মনসিংহ সার্কেলের কর্মকর্তাদের তালিকায় তার নাম তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবেও দেখা গেছে।

একজন কর্মকর্তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিকভাবে কীভাবে অনুমোদিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বগুলো কোন আদেশের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে—তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা।

চাকরিজীবন নিয়েও প্রশ্ন

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আবদুল আউয়াল ১৯৯৮ সালের ৫ মার্চ জিওবি-ডানিডা প্রকল্পে যোগ দেন। ২০০৬ সালে তিনি রাজস্ব খাতে আসেন এবং পরবর্তী সময়ে চাকরিতে নিয়মিত হন। তার চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ের তারিখ ও জ্যেষ্ঠতার অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

এ কারণে তার বর্তমান জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নিয়োগপত্র, নিয়মিতকরণের আদেশ, গ্রেডেশন তালিকা এবং পদোন্নতির নথি প্রকাশ করা হলে বিতর্কের অবসান হতে পারে।

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ডিপিএইচই ২৬১ কর্মকর্তার একটি খসড়া জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ করে। তালিকাটি নিয়ে আপত্তি বা মতামত দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছিল।

বেতন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

আবদুল আউয়ালের বিরুদ্ধে অতীতে বেতন নির্ধারণ ও গ্রেড-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পে কর্মরত থাকা এবং পরবর্তী সময়ে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সময়কালকে কেন্দ্র করে তার বেতন-গ্রেড নির্ধারণে অসঙ্গতি ছিল।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি অডিট রিপোর্ট, বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন বা চূড়ান্ত আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ্যে পাওয়া না গেলে এটিকে ‘বেতন জালিয়াতি’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে লেখা উচিত নয়। বরং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রকৃত হিসাব নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

নরসিংদী প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ

নরসিংদীতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তী সময়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। ঠিকাদারদের একটি অংশের অভিযোগ, আবদুল আউয়ালের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ দাবি করা হতো এবং অর্থ না দিলে বিল আটকে রাখা বা কর্তনের চাপ দেওয়া হতো।

এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের চুক্তিপত্র, বিল-ভাউচার, কাজের পরিমাপ বই, প্রকল্প সমাপ্তির প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট অডিট নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সিলেটের প্রকল্প নিয়েও অভিযোগ

২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আবদুল আউয়াল সিলেট সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (চলতি দায়িত্ব) দায়িত্ব পান বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ‘কুলাউড়া ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভার পানি সরবরাহ ও এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতিকরণ প্রকল্প’-এর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে।

এই প্রকল্পের কার্যক্রম, পরামর্শক নিয়োগ এবং বাস্তবায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করা হলেও অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এই অনুসন্ধানের জন্য পাওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন

আবদুল আউয়াল দীর্ঘ সময় নিজ জেলা ময়মনসিংহে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। এ সময় তার বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, বদলি-পদায়নে হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

তবে নিজ জেলায় সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কি না, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বদলি-পদায়ন নীতিমালা ও প্রশাসনিক আদেশের ওপর। তাই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধি ও আদেশ উদ্ধৃত করা প্রয়োজন।

নোয়াখালীতে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল বিক্রির অভিযোগ

আবদুল আউয়ালকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি নোয়াখালীতে ড্যানিডা প্রকল্পের মালামাল নিলামে বিক্রি।

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ড্যানিডার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের প্রায় ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের পাইপ ও নির্মাণসামগ্রী মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের স্বার্থে নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে ঢাকায় সংযুক্ত করার অনুরোধ করেন প্রধান প্রকৌশলী আবদুল আউয়াল—এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

অর্থাৎ, এ ঘটনায় আবদুল আউয়াল নিজেই সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নিলামসংক্রান্ত নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, দরপত্র, অনুমোদন, ক্রেতার পরিচয় এবং অর্থ লেনদেনের রেকর্ড তদন্ত করা প্রয়োজন।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষের অভিযোগ

আবদুল আউয়ালের বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ও পিআরএল-সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তিতে অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ফাইল অনুমোদনের জন্য এক থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ চাওয়া হতো এবং অর্থ না দিলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হতো।

তবে এ অভিযোগের ক্ষেত্রে কথিত গোয়েন্দা প্রতিবেদন বা অভ্যন্তরীণ নথির মূল কপি প্রকাশ্যে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিবেদনে এটিকে ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রমাণিত’ না লিখে ‘অভিযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে নিরাপদ।

গৌরীপুর ও ফুলপুরের পানি প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভায় পানি সরবরাহ প্রকল্পে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হলেও শহরবাসী প্রত্যাশিত পানি পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে দুটি প্রকল্পে মোট প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্য এবং পানি সরবরাহে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু সাবেক বা বর্তমান কোনো কর্মকর্তাকে দায়ী করার আগে প্রকল্পের নকশা, ঠিকাদারি চুক্তি, কাজের মান, পানি উৎস, যন্ত্রপাতির সক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রকল্প-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা—সবকিছু তদন্ত করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

আবদুল আউয়ালকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দাবি করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক দলিল—যেমন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক পদসংক্রান্ত নথি, কমিটির তালিকা বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ—এই অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি।

অতএব রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়, বরং ‘অভিযোগ’ বা ‘বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করা উচিত।

আবদুল আউয়ালের বক্তব্য

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে আবদুল আউয়াল নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চাকরিজীবনে পোস্টিংয়ের জন্য তিনি কোনো তদবির বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেননি এবং কর্তৃপক্ষ তার কর্মদক্ষতা বিবেচনা করেই তাকে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের কথাও জানিয়েছেন।

এই বক্তব্যগুলো অভিযোগের বিপরীতে তার অবস্থান হিসেবে প্রতিবেদনে থাকা জরুরি।

তদন্তই পারে প্রকৃত সত্য বের করতে

ডিপিএইচইর মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতগুলো গুরুতর অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের বিষয়। তবে অভিযোগ আর প্রমাণ এক জিনিস নয়। একইভাবে কোনো কর্মকর্তার দ্রুত পদায়ন প্রশ্নবিদ্ধ মনে হলেও শুধু সে কারণেই দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয় না।

তাই আবদুল আউয়ালের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই করতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে—

১. তার পদায়ন ও দায়িত্ব অর্পণের সব সরকারি আদেশ;
২. সংশ্লিষ্ট সময়ের জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেডেশন তালিকা;
৩. পদায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিমালা;
৪. নোয়াখালীর নিলামসংক্রান্ত পূর্ণ নথি;
৫. বিভিন্ন প্রকল্পের অডিট আপত্তি ও নিষ্পত্তির নথি;
৬. বেতন ও গ্রেড নির্ধারণের নথি;
৭. পেনশন ও পিআরএল ফাইল নিষ্পত্তির রেকর্ড; এবং
৮. অভিযোগে কথিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত

পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলোর কোনোটি সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যেন স্বচ্ছতা, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা ও বিধিবিধানের ভিত্তিতে হয়—এটাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।