ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৫:০৫:২৩ PM

উপাধ্যক্ষ নিয়োগে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
06-09-2026 03:57:02 PM
উপাধ্যক্ষ নিয়োগে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ

পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরণ না করেই একজন সাবেক এনজিওকর্মীকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই উপাধ্যক্ষ মোসা. শাহানারা আক্তারের চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো এবং চাকরি স্থায়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে শাহানারা আক্তারকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে তাঁকে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরদিন তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের আগে মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (ইউজিডিপি)-এ দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় একই প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন শাহানারা আক্তার।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনকারীদের জন্য অন্তত ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই শর্ত পূরণ করে ছয়জন শিক্ষক আবেদন করলেও তাঁদের মধ্যে মাত্র দুজনকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। অন্যদিকে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও শাহানারা আক্তারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক চাকরিপ্রার্থী।

ঢাকার মিরপুরের পল্লবীর আলহাজ আব্বাস উদ্দিন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘উপাধ্যক্ষ পদের জন্য যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো আমার ছিল। ১৯৯৬ সাল থেকে শিক্ষকতা করছি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছি। এ ছাড়া আমার পরিচিত ইসলামী ব্যাংক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল নাসির উদ্দিন স্যারও আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আমাদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়নি।’

নিয়োগপত্রের ২ নম্বর শর্তে বলা হয়েছে, ‘এই নিয়োগ সম্পূর্ণ চুক্তিভিত্তিক বিধায় স্থায়ী নিয়োগের কোনো অধিকার সৃষ্টি করবে না।’ নিয়োগপত্রটি জেলা প্রশাসক ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত।

তবে নিয়োগের ছয় মাস পর গত ২০ জুলাই শাহানারা আক্তার চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য আবেদন করেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে গত ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাঁর চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম না। যাঁরা নিয়োগ দিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁরাই বলতে পারবেন। এ ছাড়া বোর্ড সভায় আমার কাছে তাঁর চাকরি স্থায়ী করার বিষয়ে জানতে চাইলে আমি বলেছি, দুই বছর না হলে স্থায়ী করা যায় না।’

অভিযোগের বিষয়ে উপাধ্যক্ষ মোসা. শাহানারা আক্তার বলেন, ‘আমি এর আগে দীর্ঘদিন ডিসি অফিসে কাজ করেছি এবং বিভিন্ন চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে।’

তাঁর ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এনটিআরসিএর নিয়োগ রয়েছে।’

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মাত্র দুজন প্রার্থী পেয়েছি। তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে নেওয়া হয়েছে।’

প্রয়োজনীয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও শাহানারা আক্তারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল না বিধায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেটি বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি, আর চুক্তির মেয়াদও বাড়ানো হয়নি।’

সাবেক কর্মস্থলের পূর্বপরিচয়ের কারণে শাহানারা আক্তার নিয়োগ পেয়েছেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এর আগে আমি যে প্রকল্পে ছিলাম, সেখানে পটুয়াখালীর অনেকে চাকরি করতেন। সখ্যের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

তবে নিয়োগের শর্ত, প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে ডাকার প্রক্রিয়া এবং চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।