ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৬:১৯:৫৫ PM

৩৫০ কোটির গুদাম প্রকল্পে ব্যাপক অসঙ্গতি

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
19-07-2026 07:43:44 PM
৩৫০ কোটির গুদাম প্রকল্পে ব্যাপক অসঙ্গতি

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) “বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন এবং নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ” প্রকল্পের (২য় পর্যায়) কার্যক্রম নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণ ও সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার।

সূত্রের দাবি, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. মজিবর রহমান খানের সময়কালে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন কাজের ঠিকাদার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারিত। প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ প্রায় ৩৫০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সার সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, পুরোনো গুদামের সংস্কার, নতুন গুদাম নির্মাণ এবং কৃষকের কাছে সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ ও সংস্কারকাজে তদারকির ঘাটতি থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গুদাম নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বিএডিসির নন-নাইট্রোজেনাস সার সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি গুদাম, অফিস ভবন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

তবে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের দাবি, রংপুরের আলমনগরে নির্মিত নতুন সার গুদাম, দিনাজপুরের বিরামপুরে ৭ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদাম ও অফিস ভবন, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নির্মিত সার গুদাম এবং চুয়াডাঙ্গায় বিএডিসি প্রাঙ্গণের নতুন গুদাম নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব কাজের ক্ষেত্রে দরপত্রের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু স্থানে কাজের মান যাচাই ও নিয়মিত তদারকির অভাবে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন অঞ্চলের কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদার নির্বাচন ও কার্যাদেশ প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি। তাদের দাবি, একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষকের কাছে সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় কৃষি উৎপাদনে সহায়তা করার জন্য এ ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, নির্মাণকাজের মান এবং বাস্তবায়ন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বিএডিসি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।