ঢাকা: দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেও সাংগঠনিক পদ-পদবী থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে রাজধানীর গুলশানে মানববন্ধন করেছেন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক নেতারা। শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত গুলশান এলাকায় বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধনে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক বহু নেতা-কর্মী অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাদের দাবি, দলের কঠিন ও দুঃসময়ে তারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে অনেকেই হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও কারাভোগের শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ মাসের পর মাস কারাগারে থেকেছেন। তবুও দলের প্রতি আনুগত্য ও আদর্শ থেকে তারা কখনো সরে যাননি।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও অবদানের পরও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন কিংবা কম সক্রিয় ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা নেতাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তাদের এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য দলের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তারা আশা করছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের ত্যাগ, অবদান ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে এবং ভবিষ্যতে পদ-পদবী প্রদানের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও ত্যাগকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
এ সময় বেশ কয়েকজন সাবেক নেতা বক্তব্য দেন। তারা বলেন, বিএনপির সংকটকালীন সময়ে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের মূল্যায়ন না করলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হতে পারে। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের যথাযথ সম্মান ও দায়িত্ব দিলে দল আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতারা আরও বলেন, তাদের এই কর্মসূচি কোনো ব্যক্তি বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নয়। বরং দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে তুলে ধরা এবং নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তারা আশা প্রকাশ করেন, দলের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন সময়ের সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন চলাকালে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দলীয় নেতৃত্বের কাছে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান।
তবে এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাদের দাবি ও বক্তব্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মহল অবগত রয়েছে। ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অংশগ্রহণকারীরা কর্মসূচি শেষে জানান, তারা দলের প্রতি আস্থাশীল এবং ভবিষ্যতেও বিএনপির আদর্শ ও কর্মসূচির সঙ্গে থেকে কাজ করতে চান। তবে দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি এবং সাংগঠনিক মূল্যায়নের প্রত্যাশা থেকেই তারা এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন।