ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৩:২৯:২৬ AM

মানুষের আস্থার প্রতীক:ইয়াসের খান চৌধুরী

মান্নান মারুফ
25-07-2026 08:40:35 PM
মানুষের আস্থার প্রতীক:ইয়াসের খান চৌধুরী

রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য জনসেবা—এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ও ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের কাছেই জনপ্রিয় নন, বরং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উন্নয়নসহ জনকল্যাণমূলক প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নান্দাইলবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) জনসেবার ধারাবাহিকতায় তিনি আকস্মিকভাবে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগী, তাদের স্বজন ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার খোঁজখবর নেন। রোগীদের চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধ সরবরাহ, হাসপাতালের পরিবেশ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেন প্রতিমন্ত্রী।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রান্তিক জনগণের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে হাসপাতালের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয়েও তিনি খোঁজ নেন। চিকিৎসক সংকট, অবকাঠামোগত প্রয়োজন এবং রোগীদের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার, আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে তুলতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ইয়াসের খান চৌধুরীর উদ্যোগ এর আগেও প্রশংসিত হয়েছে। নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল হিসেবে পরিচালিত হলেও ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপের কারণে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর দাবি ছিল স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে একটি ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) প্রদান করেন। তাঁর সেই উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি আদেশ জারি করে। স্থানীয় জনগণ মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত নান্দাইলের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নেও প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সার্বিক তদারকির পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার উন্নয়নমূলক কাজেও তিনি নিয়মিত সময় দিয়ে থাকেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণে কাজ করার এই মানসিকতা তাঁকে একজন মানবিক ও জনমুখী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ইয়াসের খান চৌধুরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি আরও বেড়েছে। ব্যস্ত সরকারি দায়িত্ব পালনের মধ্যেও তিনি নিয়মিত এলাকায় গিয়ে মানুষের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। ফলে জনগণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁর সাম্প্রতিক আকস্মিক পরিদর্শনও স্থানীয়দের কাছে জনবান্ধব নেতৃত্বের আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত তদারকির ফলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর এমন সরেজমিন পরিদর্শন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে জনসম্পৃক্ততা ও উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইয়াসের খান চৌধুরী নিজেকে একজন কর্মমুখী জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও সামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে নান্দাইল আগামী দিনে আরও আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হবে। জনকল্যাণে তাঁর এমন উদ্যোগ ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয় উপস্থিতি স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তারা আশাবাদী।