ঢাকা, রবিবার ৯ই মে ২০২১ , বাংলা - 

স্বাস্থ্যে কর্তার বিপুল সম্পদ,অনুসন্ধানে দুদক

স্টাফ রিপোর্টার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

2021-03-22
স্বাস্থ্যে কর্তার বিপুল সম্পদ,অনুসন্ধানে দুদক

স্বাস্থ্য অধিদফতরের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক কর্মকর্তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করতে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। জানা গেছে, স্ত্রীর মালিকনায় একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডার তৈরি করে এককোটি ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আলোচিত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সেলস অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সোমবার (২২ মার্চ) মনিরুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী চৌধুরী শামীমা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেগুন বাগিচায় দুদক কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, মনিরুজ্জামান চৌধুরী ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডার তৈরি করে এককোটি ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। ২০১৭ সালে আজিমপুর মেটারনিটিতে মালামাল সরবরাহের নামে এই টাকা আত্মসাৎ করেন তারা। যে প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডার তৈরি করা হয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানের নাম হিমি এন্টারপ্রাইজ। মেয়ের নামে প্রতিষ্ঠান তৈরি করে মনিরুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী চৌধুরী শামীমা ইয়াসমিন নানা কৌশলে সরকারি কেনাকাটার নামে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এসব অর্থের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন এই দম্পতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মনিরুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী চৌধুরী শামীমা ইয়াসমিনের নামে কাফরুল থানার উত্তর ইব্রাহীমপুরের ৫১৬/২-এ নম্বর প্লটে একটি পাঁচ তলা বাড়ি রয়েছে। এছাড়া মিরপুর-১৪ নম্বর সেকশনের ১২/১৪ এন.এইচ বি হোল্ডিংয়ে আরেকটি পাঁচ তলা বাড়ি রয়েছে তাদের। মনিরুজ্জামানের একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো গ-৩১-৮৬৭৮), দুটি ট্রাক, একটি নোয়াহ মাইক্রোবাস রয়েছে। দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে তাদের এসব সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসবের বাইরে আরও সম্পদ রয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

দুদক সূত্র জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে দুদকের পক্ষ থেকে ভুয়া চাহিদাপত্রের মাধ্যমে এককোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক সহিদুর রহমানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। দুদক কর্মকর্তা সহিদুর রহমান গত ১১ মার্চ মনিরুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী চৌধুরী শামীমা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে মনিরুজ্জামান দম্পতির দুটি বাড়ি ক্রয় বা নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য, গাড়ি কেনার তথ্যসহ অন্যান্য সম্পদের বিবরণী, বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সঞ্চয়পত্র, এফডিআরসহ অন্যান্য হিসাবের সকল কাগজপত্র সঙ্গে করে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া মনিরুজ্জামান-শামীমা দম্পতির নিজেদের ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি কন্যা হিমির নামে থাকা আয়কর নথি ও পরিবারের সবার জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কপি সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আবারও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে দুদক। ২০১৯ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অর্ধশতাধিক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি তালিকা করেছিল দুদক। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে করোনা মহামারির কারণে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কিছুটা ধীরগতিতে আগাচ্ছিল। এখন আবারও পুরনো অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।